২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই ছবি-সংগৃহীত

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে। 

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেন, নাভি পিল্লাই অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত হয়েছে। 

ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণবাদী শাসনামলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হন তিনি। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ছিলেন তিনি। 

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। পরবর্তী সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। সংঘাতের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন, বিচারিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত সততা এবং মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।