মেসির বিদায় রাজকীয়, ম্যারাডোনার শেষ অধ্যায় ছিল বেদনার

ক্রীড়া প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

খেলাধুলা

মেসির বিদায় রাজকীয়, ম্যারাডোনার শেষ অধ্যায় ছিল বেদনার ছবি-সংগৃহীত

লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে ইতিহাস এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে তিনি এমন এক বিদায়ী সম্মান পাচ্ছেন, যা দিয়েগো ম্যারাডোনা কখনোই পাননি। ম্যারাডোনার বিদায় ছিল আকস্মিক ও ট্র্যাজিক, আর মেসি মাঠ ছাড়ছেন রাজকীয় প্রস্তুতি নিয়ে।

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে দুই ১০ নম্বরের বিদায়ের পার্থক্য স্পষ্ট।

১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর নার্স সু কার্পেন্টারের হাত ধরে ডোপিং পরীক্ষার জন্য হেঁটে গিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। সেটিই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ দৃশ্য, কারণ পরীক্ষায় এফিড্রিন শনাক্ত হওয়ায় তিনি বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হন। এর চার বছর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেও তিনি বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ১৯৯৪ সালের সেই বিদায় উৎসবের মঞ্চকে এক ট্র্যাজেডিতে পরিণত করেছিল।

মেসির ক্ষেত্রে চিত্রটি একেবারেই আলাদা ও সুপরিকল্পিত। গ্যালারিতে পরিবার, মাঠে প্রস্তুত সতীর্থরা এবং পুরো স্টেডিয়াম মুখিয়ে আছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের পর সমর্থকদের সব অভিমান ধুয়েমুছে তিনি পূর্বঘোষিত বিদায়ের বার্তা নিয়ে মাঠে নামছেন। সমর্থকদের বছরের পর বছর ধরে রাখা চাওয়া তিনি পূর্ণ করেছেন।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ১৯৯০ সালের ইতালির রোম অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেই ম্যারাডোনার সরে দাঁড়ানোর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। শারীরিক যন্ত্রনায় জর্জরিত ২৯ বছর বয়সী ম্যারাডোনার জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে তখন তীব্র সংশয় ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের অক্টোবরে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রধান হুলিও গ্রোনদনার সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেও তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে সেই অন্তিম সুর পার হয়েও তাঁর ক্যারিয়ারে সেভিয়া, নিউয়েলস ও বোকা জুনিয়র্সের নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছিল।