জাপানের কাছে হেরে পদকের পথে বড় ধাক্কা বাংলাদেশের
ছবি- সংগৃহীতক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে জাপানের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও জয় পেল না বাংলাদেশ। টোকাই সিটিজেন জিমন্যাশিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের বিপুল সমর্থনের মধ্যে ৪০–৩৭ পয়েন্টে হেরে গেছে লাল-সবুজের দল। এই হারে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল ও পদকের সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল জাপান। বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বেশ কিছু ভুল ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। রেইডে প্রত্যাশিত পয়েন্ট না পাওয়া এবং জাপানি খেলোয়াড়দের আটকাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
জাপানের বিপক্ষে হারের ফলে গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতকে হারানো ছাড়া বাংলাদেশের সামনে কার্যত কোনো পথ নেই। শুধু ভারতকে হারালেই হবে না, সেমিফাইনালে ওঠার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোর ফলের দিকেও।
এর আগে ২০১৮ এশিয়ান গেমসে রুপাজয়ী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে এবারের আসরে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর চাইনিজ তাইপের বিপক্ষেও জয় পায় মিজানুর রহমান-আল আমিনরা। টানা দুই জয়ে ছেলেদের কাবাডিতে দীর্ঘ দুই দশক পর পদক জয়ের আশা জোরালো হয়ে উঠেছিল।
জাপানের বিপক্ষে জয় পেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি আব্দুল জলিলের শিষ্যরা।
শুরু থেকেই জাপানের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ভারতের কাছে আগের ম্যাচে হারলেও তারা ২৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল। সেই পারফরম্যান্সের পরও জাপানের কৌশল ও শক্তির জায়গাগুলো বাংলাদেশ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।
প্রথমার্ধেই বাংলাদেশকে একবার অলআউট করে জাপান। একটি লোনাসহ ২২–১৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল। জাপানের হয়ে ১০ নম্বর জার্সিধারী সুজুকি ছিলেন অন্যতম সেরা পারফরমার। বারবার রেইডে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেছেন তিনি।
বিরতির পর ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু উল্টো ভুলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রেইডে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পাশাপাশি জাপানের আক্রমণ ঠেকাতেও হিমশিম খেতে হয় বাংলাদেশকে। ধীরে ধীরে পয়েন্টের ব্যবধান বড় করতে থাকে স্বাগতিকরা।
একপর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের ব্যবধান দাঁড়ায় ১০ পয়েন্টে। ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় বাংলাদেশ খেলোয়াড়রা আক্রমণে গেলেও বেশ কিছু সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশকে অলআউট করে জাপান। দ্বিতীয় লোনা পাওয়ার পর তাদের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২৯–১৮।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় বাংলাদেশ। জাপানকে অলআউট করার পাশাপাশি বোনাস পয়েন্ট আদায় করে ব্যবধান কমিয়ে আনে লাল-সবুজের দল। একপর্যায়ে জাপানের ৩৪ পয়েন্টের বিপরীতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮।
এরপর দ্রুত আরও দুই পয়েন্ট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ। জাপান তখন সময়ের ব্যবধান কাজে লাগিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। বাংলাদেশও পরপর পয়েন্ট তুলে নিয়ে ব্যবধান নামিয়ে আনে মাত্র এক পয়েন্টে—৩৫–৩৪।
এই মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রেইডে গিয়ে দ্বীপায়ন আউট হওয়ায় আবারও সুবিধা পেয়ে যায় জাপান। এরপর লিড বাড়িয়ে নেয় তারা।
শেষ মুহূর্তে ব্যবধান পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের কয়েকটি ভুল জাপানকে বাড়তি পয়েন্ট এনে দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ৪০–৩৭ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেও তা জয়ে রূপ দিতে না পারায় হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে ঘরের মাঠে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে জাপানের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।