ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে ঢাকায় পর্দা উঠবে সাফের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দক্ষিন এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে আবারো বসতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ঢাকায় আয়োজিত হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম বড় এই প্রতিযোগিতা। এবার সাতটি দলকে নিয়ে আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। সাফ কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনেই মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী ভারত ও পাকিস্তান। একই দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে ৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ। একই দিনে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের আরও দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ভারত খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে আর বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ বা ফাইনাল হবে ১৭ নভেম্বর রাতে। ওই ম্যাচের মধ্য দিয়েই এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা নামবে।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং অন্যটি রাত ৮টায়। সেমিফাইনালের সময়ও একই থাকবে, একটি বিকেলে, অন্যটি রাতে। ফাইনাল শুরু হবে রাত ৮টায়। দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকায় ফিরতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে উদ্বোধনী দিনেই ভারত-পাকিস্তানের লড়াই থাকায় শুরু থেকেই টুর্নামেন্ট ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে নিয়েও ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র হয়েছিল গত আগস্টে। তখনই জানা গিয়েছিল, ঘরের মাঠের আসরে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। এবার জানা গেল, কোন দলের বিপক্ষে কবে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ঢাকায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। টুর্নামেন্টের সব খেলাই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে। তবে এই সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি।
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও খেলতে পারবে। তাদের রাখা হবে বাংলাদেশের গ্রুপে। সে ক্ষেত্রে নতুন সূচি অনুযায়ী ৪ নভেম্বর থেকে খেলা শুরু হবে। ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এদিকে সাফে দুই যুগের খরা কাটানোর হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশের ফুটবলে আশার প্রদীপ জ্বলে মাঝেমধ্যে, হারিয়ে যেতেও সময় লাগে না, এই উত্থান-পতনের মিছিলে শিরোপার আলোর দেখা নেই বহুদিন। ২০০৩ সালে সাফ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়, অথচ সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। উত্থান-পতনে এবার কি প্রাপ্তির আলোয় উদ্ভাসিত হবে লাল-সবুজ! হাভিয়ের ক্যাবরেরার চার বছরেরও বেশি সময়ের অধ্যায়ে বাংলাদেশ ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সাফের সেমিফাইনালে উঠেছিল বটে, কিন্তু সেই ঝলক শেষ পর্যন্ত রূপ নিতে পারেনি টেকসই কোনো অর্জনে। এপ্রিলের শেষে চুক্তি ফুরোনোর পর পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেই বিদায় নেন স্প্যানিশ এই কোচ, রেখে যান মিশ্র এক উত্তরাধিকার, কিছু সুখস্মৃতি, সামগ্রিক ফলাফলের হিসাবে শূন্যতাই বেশি।
২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গী হয়ে বাংলাদেশ লড়েছিল ‘সি’ গ্রুপে। ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু, এরপর হংকংয়ের মাটিতেও প্রতিরোধের ছাপ রেখে ড্র, সব মিলিয়ে লড়াইটা ছিল সম্মানজনক। কিন্তু শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মাঠে ১-০ গোলের হার সিলমোহর দিয়ে দেয় বাস্তবতায়, চার দশকেরও বেশি সময়ের এশিয়ান কাপে বিরতি ঘোচানোর স্বপ্নটা আরও একবার থেকে যায় অধরা। বিশ্বকাপ বাছাইয়েও গল্পটা প্রায় একই রকম, দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছে বাংলাদেশের যাত্রা। ফলাফলের খাতায় হার-জিত-ড্রয়ের মিশেল থাকলেও বড় মঞ্চে পা রাখার স্বপ্নটা রয়ে গেছে অধরাই। এসব পরাজয়ের ভেতরেও যে লড়াইয়ের রেখাগুলো ফুটে উঠেছিল, তা প্রমাণ করে দলটির সামর্থ্য একেবারে ফুরিয়ে যায়নি, বরং সময়ের অপেক্ষায় ছিল একটা নতুন দিকনির্দেশনার। সেই দিকনির্দেশনা এসেছে থমাস ডুলির হাত ধরে। জার্মান বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান কোচের অধীনে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে মোটে একটি ম্যাচ, সেটিই লিখে ফেলেছে ইতিহাসের নতুন পাতা। ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ইতালির মাটিতে ২-১ গোলের জয়, এটি ছিল ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ এবং প্রথম জয়, দুটোই একসঙ্গে।