সংবাদ শিরোনাম

যুদ্ধ আর এআইয়ের যুগে বিশ্ব বাঁচাতে গুতেরেসের কড়া বার্তা!

 প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ আর এআইয়ের যুগে বিশ্ব বাঁচাতে গুতেরেসের কড়া বার্তা!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার এবং বিশ্বক্ষমতার পরিবর্তন-এসব বিষয় নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে কথা বলেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী আসন দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এসব সংকট একই পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার অংশ। আর এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতা-কোথাও তা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, আবার কোথাও তা হাতছাড়া হচ্ছে।

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উদ্বেগ
গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। এরপর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় এমন মাত্রার ঘটনা তিনি আর দেখেননি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গত বছর একটি পরামর্শমূলক মতামতে স্পষ্ট করেছে, গাজায় জাতিসংঘকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। জাতিসংঘের কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদেরও সুরক্ষা দিতে হবে।

সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা যেন বিশ্ব ভুলে না যায়, সেই আহ্বানও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

বিশ্বক্ষমতায় বড় পরিবর্তন, সামনে এআই
বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গুতেরেস। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন তিনটি প্রধান পথে হচ্ছে।

একদিকে বিভিন্ন দেশের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতা ক্রমেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে। আর তৃতীয় পরিবর্তনটি হচ্ছে মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের দিকে ক্ষমতার স্থানান্তর।

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো এত দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, বিশ্বের বিভাজনের রেখাগুলো আরও প্রশস্ত হচ্ছে।

যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শুধু সামরিক শক্তিতে শান্তি নয়
শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গুতেরেস। তাঁর মতে, প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক শক্তিও একা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটি নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।

গুতেরেসের ভাষায়, একুশ শতকে শান্তির অর্থ শুধু যুদ্ধ বা সংঘাত না থাকা নয়; শান্তির জন্য সংযমও প্রয়োজন।

নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসন
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য অন্তত একটি স্থায়ী আসন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস।

তিনি বলেন, একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন না থাকা অন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বৈশ্বিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে এই কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তবে আফ্রিকার পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টন করা হয়। তবে অস্থায়ী সদস্যদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মতো ভেটো ক্ষমতা নেই।

আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য দুটি স্থায়ী ও দুটি অতিরিক্ত অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে ইউক্রেন জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন করে পরিচালিত একটি যুদ্ধের শিকার হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের সম্মুখসারির এলাকা থেকে অনেক দূরেও এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান এসব সংঘাত ও পরিবর্তনের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা এবং ক্ষমতার ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির আওতায় রাখার ওপর জোর দেন গুতেরেস।