হরমুজ খুলতে প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে শর্ত
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে পারে।
গত রোববার ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছিল, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা “কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই” পাল্টা জবাব দেবে।
মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে তারা কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তার একটি সময়সূচিতে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে ঘোষণা করতে হবে যে তারা বিষয়টির কূটনৈতিক সমাধান চায়, সেটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং এরপর প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোবে, তার একটি সময়সীমায় একমত হতে হবে।”
ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার শুরু করার বিষয়ে ওই প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না পেজেশকিয়ানের
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার সকালে তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছেন ওই ইরানি কর্মকর্তা।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ছবিতে গত ৮ আগস্ট তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ানকে দেখা যায়।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাত বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতার বিস্তারিত নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা যেতে পারে। তাঁর দাবি, তেহরান গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কূটনীতিতে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি সোনালি সুযোগ।”
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন যদি বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করতে স্বাগত জানাবে।