সংবাদ শিরোনাম

রুবিওর সাফাই, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় নতুন বিতর্ক

 প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

রুবিওর সাফাই, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় নতুন বিতর্ক ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিএনএন (CNN), এমএস নাও (MS NOW) ও পলিটিকো (Politico)-এর সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর যুক্তি, সংবাদমাধ্যম তিনটিকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা থেকে বন্ধ করা হয়নি; শুধু প্রেসিডেন্টের সরকারি কমপ্লেক্সে কাজ করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা সিএনএন বন্ধ করে দিচ্ছি না। এমএসএনব্লিউ বা এমএস নাও-যে নামেই বলুন-সেখানে পুলিশ বা সেনাসদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে মানুষকে গ্রেপ্তার করছে না, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে না। শুধু হোয়াইট হাউসের কর্মস্থল থেকে তাদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রুবিও সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বললেন। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

সোমবার সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা যদি কার্যত উগ্র বামপন্থী প্রচারণায় যুক্ত হন, তাহলে হোয়াইট হাউসে আপনাদের বিশেষ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।’ তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটির উদ্দেশ্য ছিল ‘মৌলিক ন্যায্যতা’ নিশ্চিত করা।

এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, অনুষ্ঠানে সব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি তিনি চেয়েছিলেন।

মামদানি বলেন, ‘আমরা এখানে লনে সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে রাখব। এটা এমন একটি বিষয়, যাতে আমি বিশ্বাস করি-মতামত বা সমালোচনা যেমনই হোক না কেন, সবাইকে এখানে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত।’

গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে বারবার ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করেছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদ প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে, কিন্তু হোয়াইট হাউস, ব্রিফিং রুম কিংবা প্রেসিডেন্টের প্রেস পুলে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করে না।

শনিবার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়। ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের প্রবেশের অনুমতিপত্রও বাতিল করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত অধিকার লঙ্ঘন করেছে। সাংবাদিকদের প্রতিবেদন বা সংবাদ প্রকাশের কারণে সরকার তাঁদের সরকারি কার্যক্রমে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করতে পারে না বলেও তারা যুক্তি দিয়েছে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর করা আবেদন নিয়ে শিগগিরই একজন ফেডারেল বিচারক শুনানি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত একে অপরের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য কভারেজ ভাগ করে নেয়। সিএনএনকে ওই ব্যবস্থার পালা থেকে বাদ দেওয়ার পর সোমবার ট্রাম্পের অনুষ্ঠান থেকে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো পুল কভারেজ সরিয়ে নেয়।

এর মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস চালু করেছে ‘ট্রাম্প টিভি’। ইউটিউব ও হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ২৪ ঘণ্টার এই স্ট্রিমিং চ্যানেলে প্রেসিডেন্টের ভিডিও, বক্তব্য ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চ্যানেল চালুর সময় সেখানে জুলাই মাসে মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ট্রাম্পের একটি পুরোনো বক্তব্য প্রচার করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোয়াইট হাউস লিখেছে, ‘রিয়েল-টাইম আপডেট ও সরাসরি অনুষ্ঠান সরাসরি আপনার ফোনে দেখুন।’ বার্তাটিতে আরও বলা হয়, ‘কোনো বাড়তি শব্দ নয়। শুধু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর-সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে।’

সূত্র: আলজাজিরা