ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকিতে ধ্বংসের মুখে গাজা সিটি
ছবি-সংগৃহীতআন্তজাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ মঙ্গলবার (২২সেপ্টেম্বর) হুমকি দিয়েছেন, হামাস ইরান বা তুরস্কের উসকানিতে একজন ইসরায়েলি নাগরিককেও জিম্মি করলে গাজা সিটিতে যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে, তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গাজা সিটি থেকে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান, তুরস্ক এবং হামাসের মতো তাদের মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য আগ্রাসী তৎপরতার হুমকি বাড়ছে-এমন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কাতজ তাঁর এই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে ঠেকাতে এ ধরনের হুমকি ও পদক্ষেপই একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।
কাতজের বক্তব্যটি আপাতত একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া হুমকি হলেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এটি জনপ্রিয় হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের জন্য আইনি ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচারিক অঙ্গনে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখে ইসরায়েলের পক্ষে লড়াই করা আইনজীবীদের জন্য কাতজের এই বক্তব্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাঁদের বোঝাতে হয় যে ইসরায়েলি নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক জনগণের ক্ষয়ক্ষতি ও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সমানুপাতিকতার নীতি মেনে চলছে। কাতজের এমন হুমকি সেই যুক্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সমালোচকেরা কাতজের বক্তব্যকে তাঁদের অভিযোগের সমর্থনে ব্যবহার করতে পারেন। সম্প্রতি ‘নাজা’ নামের একটি তথ্যচিত্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। তবে ওই চলচ্চিত্রে নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ ঘটনার উদাহরণ খুব বেশি নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা সরবে না
কাতজ আরও জানিয়েছেন, গাজার যে ৬৩ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
অর্থাৎ, বর্তমান নিয়ন্ত্রণের ৬৩ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পেছনে সরিয়ে নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ প্রায় ৫৩ শতাংশ, প্রায় ৩০ শতাংশ কিংবা প্রায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার মতো কোনো আংশিক প্রত্যাহারও করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই অবস্থান অন্তত আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এরপর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে একাধিকবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও ইসরায়েলকে গাজা থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে পারে।
সম্ভাব্য ওই উদ্যোগে হামাসও আংশিকভাবে অস্ত্র ত্যাগ করবে-এমন সমঝোতার বিনিময়ে গাজার কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
কাতজের মঙ্গলবারের বক্তব্যের ফলে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো আংশিক প্রত্যাহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।