ইস্টার হামলার পাঁচ বছর পর শ্রীলঙ্কায় ১৫ জন দোষী
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০১৯ সালের ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার হাইকোর্ট ২৪ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ওই হামলায় ২৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৪৫ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। আহত হয়েছিলেন ৫০০ জনের বেশি।
পাঁচ বছর ধরে চলা বিচার শেষে মঙ্গলবার তিন বিচারকের বেঞ্চ ১৪ আসামিকে সব কটি অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাস দমন আইনের (Prevention of Terrorism Act) আওতায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ ছিল।
আরেক আসামি কয়েকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বাকি নয়জনকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ২৪ জনই শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। শুরুতে এ মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে তাঁদের একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান।
সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ নওফারও রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আদালতকে জানান, বোমা হামলা চালানো আট সদস্যের দলটিকে তিনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বিচারক জানান, মঙ্গলবারই পরে আসামিদের সাজা ঘোষণা করা হবে। রায় পড়ার সময় আদালতের বাইরে নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন পুলিশের কয়েক ডজন কমান্ডো।
রায়ের পর শ্রীলঙ্কার রোমান ক্যাথলিক চার্চ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ক্যাথলিক ধর্মযাজক জুড ফার্নান্দো এএফপিকে বলেন, ‘অবশেষে আমরা বিচার পেলাম।’ তাঁর ভাষায়, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে।
হামলায় আহতদের একজন তেরেসা ফার্নান্দো। বিস্ফোরণে তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছিল। তিনি বলেন, তাঁকে যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা যেন আর কাউকে সহ্য করতে না হয়।
তেরেসা বলেন, ‘আজ আমরা এই হামলার শিকার হয়ে বিচার পাওয়ার আশায় এখানে এসেছি। আদালত যা-ই বলুক... আমরা মাথা নত করে তা মেনে নেব।’
হোটেল ও গির্জায় সমন্বিত হামলা
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ইস্টার সানডের দিনে সমন্বিতভাবে ওই বোমা হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল তিনটি বিলাসবহুল হোটেল এবং তিনটি গির্জা। গির্জাগুলোর দুটি ছিল ক্যাথলিক এবং একটি প্রোটেস্ট্যান্ট।
শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের একটি কমিটির তদন্তে উঠে আসে, হামলার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ওই হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছিল।তবে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, এখন পর্যন্ত যাঁদের হামলার সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁরাই এর মূল পরিকল্পনাকারী নন। চার্চের দাবি, হামলার পেছনে আরও বড় একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দেয়নি।
এর আগে গত জুলাইয়ে হামলার বিষয়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সতর্কবার্তায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার পুলিশের সাবেক এক প্রধান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সূত্র: আলজাজিরা