সংবাদ শিরোনাম

কাবাডিতে শুভসূচনা, ড্র’য়ে শেষ নারী ফুটবলের খেলা

 প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

কাবাডিতে শুভসূচনা, ড্র’য়ে শেষ নারী ফুটবলের খেলা ছবি-সংগৃহীত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর পর রবিবার বাজে একটা দিন কাটিয়েছিল। সোমবার এসে সেই হতাশা কিছুটা হলেও কাটানো সম্ভব হয়েছে। পুরুষ কাবাডি দল জয়ে আসর শুরু করেছে, অন্যদিকে শেষ ম্যাচে না জিতলেও মিয়ানমারের বিপক্ষে ড্র করেছে নারী ফুটবল দল। এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের গ্রুপ ‘এ’-র উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল। জাপানের টোকাই সিটিজেন জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের পর জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৭ পয়েন্ট, ওদিকে কোরিয়াও কম যায়নি, তারা তুলে নিয়েছিল ১৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ তুলে  নেয় ২২ পয়েন্ট, বিপরীতে কোরিয়া ১৯ পয়েন্ট পায়। ফলে বাংলাদেশ ৩৯-৩৫ পয়েন্টে জিতে শেষ হাসি হাসে। পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশ একইদিন বিকালে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হয়। এরপর মঙ্গলবার স্বাগতিক জাপান এবং বুধবার আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ভারত, দক্ষিণ  কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপান। 

প্রতিটি দল একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার পর, গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত  সেমিফাইনালে উঠবে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ইরান, নেপাল, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সেমিফাইনালে খেলবে। চার ম্যাচ খেলে শীর্ষ দুই দল যাবে শেষ চারে। এদিকে রূপনা চাকমার নৈপুণ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে ড্রয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করল বাংলাদেশ। শেষ গ্রুপ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযানের ইতি টানল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় হারের পর গোলপোস্টের নিচে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। তার চমৎকার পারফরম্যান্সে ভর করেই পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল পিটার বাটলারের শিষ্যরা। র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫৫তম স্থানে থাকা মিয়ানমারের বিপক্ষে এই ড্রয়ের ফলে ৩ ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট  পেয়ে গ্রুপের চার নম্বরে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ। টানা দ্বিতীয় এশিয়ান গেমসে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই থাকতে হলো তাদের। 

সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে তৃতীয় স্থান লাভ করে মিয়ানমার। তিন ম্যাচে ১৬টি গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। আর মিয়ানমারের জালে বল ঢুকেছে ১৩ বার। দুটি দলের নিজেরা কেউই কোনো গোল করতে পারেনি। গত বছর নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে এই মিয়ানমারকেই ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল পর্বের টিকিট  কেটেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সোমবার ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে সেই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়নি। তবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মতোই এবারও মিয়ানমারের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন রূপনা। গত বছরের মতো এবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালের দরজা খুলে যেতে পারত বাংলাদেশের সামনে। কারণ আসরের তিনটি গ্রুপের সেরা দুটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল শেষ আটে ওঠার সুযোগ পাবে। ব্রিটিশ কোচ বাটলার অভিজ্ঞ ও উদীয়মান ফুটবলারদের সমন্বয়ে একাদশ সাজালেও পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের রক্ষণে তেমন বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুনের দুটি ভুলের সুযোগ নিয়ে লাল-সবুজদের রক্ষণ ভেদ করে ফেলেছিল মিয়ানমার। কিন্তু পোস্ট ছেড়ে  বেরিয়ে এসে দুটি আক্রমণই রুখে দেন রূপনা। বলের দখলে আধিপত্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ ধুঁকতে থাকায় প্রথমার্ধে চাপ বাড়ায় মিয়ানমার। ২১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। 

তবে গোলপোস্টের কাছ থেকে উইন থেইঙ্গি তুনের নেওয়া হেড দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সেরা সুযোগটি আসে ৩৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে। মারিয়া মান্ডার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকে পড়েন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিরতির পর বলের নিয়ন্ত্রণে কিছুটা উন্নতি দেখায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে মাঝমাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে পাসের আদান-প্রদান তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে তাদের সঙ্গে আক্রমণভাগের  বোঝাপড়ার অভাবে মিয়ানমারের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। বরং ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে ফের হতাশ হতে হয় মিয়ানমারকে। বদলি খেলোয়াড় লিন লায়ের ক্রস থেকে গোলমুখে শট নিয়েছিলেন আরেক বদলি মিয়াৎ নোয়ে খিন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে পা বাড়িয়ে বল থামিয়ে একরকম নিশ্চিত গোল আটকে দেন রূপনা। এর এক মিনিট পর আফঈদা খন্দকার ডি-বক্সের ভেতর তুনের শট দুর্দান্তভাবে ব্লক করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন।