সংবাদ শিরোনাম

গাজা যুদ্ধের মধ্যেও ইসরায়েলে ইউরোপীয় অর্থপ্রবাহ অব্যাহত

 প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গাজা যুদ্ধের মধ্যেও ইসরায়েলে ইউরোপীয় অর্থপ্রবাহ অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন সদস্য দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক চুক্তি করে যাচ্ছে। স্টেটওয়াচের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১৯৪টি চুক্তি করেছে, যার ঘোষিত মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এসব চুক্তির সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য আরও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের ২১ মাসে ৮২টি চুক্তির মূল্য ছিল ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। পরবর্তী ২১ মাসে ১১২টি চুক্তির মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো।

তথ্য অনুযায়ী, স্পেন ১৪টি চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২২৭ মিলিয়ন ইউরোর সমঝোতা করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের রাফায়েলের সঙ্গে আকাশযুদ্ধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত ২০৭ মিলিয়ন ইউরোর একটি বড় চুক্তি করে। একই সময়ে স্পেনের পুলিশ বাহিনী ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান থেকে বুলেটপ্রুফ ভেস্টও সংগ্রহ করেছে।

হাঙ্গেরি সবচেয়ে বেশি ৪২টি চুক্তি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৬০৩ মিলিয়ন ইউরো। জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সামরিক সরঞ্জাম, সাইবার নিরাপত্তা সফটওয়্যার, চিকিৎসা ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ইসরায়েলি কোম্পানির কাছ থেকে কিনেছে। তবে জার্মানির কয়েকটি চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি কিংবা অস্বাভাবিকভাবে এক ইউরো বা এক সেন্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত করে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেলজিয়াম, ইতালি ও স্পেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, পুলিশ ও সরকারি সংস্থাও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিনোম বিশ্লেষণ সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার জন্য ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস, রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ট্রয়া টেক ডিফেন্স লিমিটেড এই সময়ের শীর্ষ ঠিকাদারদের মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ চুক্তিই উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কম্পিউটার চিপ ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাজায় গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। ২০২৪ সালে আদালত ফিলিস্তিনিদের অপূরণীয় ক্ষতির বাস্তব ও আসন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বে সহায়তা না করার নির্দেশনা দেয়।


অস্ট্রিয়ার সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ আল তামিমি আল জাজিরাকে বলেন, আইসিজের সিদ্ধান্তের পরও ইসরায়েলের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক বজায় রাখা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য আইনগতভাবে টেকসই অবস্থান নয়।


ইইউ বর্তমানে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি আংশিক স্থগিত হলে ইসরায়েলের প্রায় ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রপ্তানি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইউরোপীয় কূটনৈতিক সংস্থা ইইএএসের এক পর্যালোচনায় গত বছর বলা হয়, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির মানবাধিকারবিষয়ক ধারা লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ বহন করে। তবে জার্মানি ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশের বিরোধিতার কারণে চুক্তি স্থগিতের উদ্যোগ সফল হয়নি।


মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন ইইউকে চুক্তিটি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক ইভ গেডি বলেন, মানবাধিকার সংক্রান্ত মৌলিক শর্ত লঙ্ঘিত হলে ওই চুক্তি বহাল রাখা আইনগত বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, শুধু নিন্দা জানিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে এবং ইসরায়েলকে দায়মুক্তির সুযোগ করে দেয়।                                                                                     

  সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement