হালান্ডের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবার
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
দীর্ঘ সময় মাঠে অনেকটাই নিভৃত ছিলেন আর্লিং হালান্ড।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৭৮ মিনিটে তাকে তেমনভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে
বড় তারকারা যে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন, সেটিই আবারও
প্রমাণ করলেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে
দুর্দান্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে, ৯০তম
মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত
করেন তিনি। হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের
মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। একই সঙ্গে ২৮ বছর পর
বিশ্বকাপে ফিরে স্মরণীয় এক সাফল্যও অর্জন করে দলটি।
ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, একজন স্ট্রাইকারের পুরো ম্যাচজুড়ে
আলোচনায় থাকার প্রয়োজন নেই; গুরুত্বপূর্ণ হলো সুযোগ এলে সেটিকে কাজে লাগানো।
তার ভাষায়, “ম্যাচে যদি এক বা দুটি ভালো সুযোগ পাই, বেশির ভাগ
সময়ই সেগুলো গোল হয়ে যায়। কীভাবে এমনটা সম্ভব হয়, সেটি আমিও ব্যাখ্যা করতে পারি
না। তবে আমি সবসময় বিশ্বাস রাখি যে সুযোগ আসবেই। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ
ধরে রাখার চেষ্টা করি।”
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই
ফরোয়ার্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও
কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। চার ম্যাচের মধ্যে
তিনটিতেই করেছেন জোড়া গোল।
নিজের গোল করার ধারাবাহিকতা নিয়ে হালান্ড বলেন, “এখন মনে হয়
বুঝতে পারছি, বল পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো আসলে সৃষ্টিকর্তার
আশীর্বাদ। বিষয়টি সত্যিই অসাধারণ এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ।”
ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলের লড়াকু
মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নরওয়ের জার্সির মর্যাদা
উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা এখন ছোট, তারা বড় হয়ে যেন বুঝতে পারে—নরওয়ের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু হতে পারে না।”
এই
জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন বলেও উল্লেখ করেন হালান্ড। তার মতে,
“হয়তো এই ম্যাচই নরওয়ের ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা করবে। আজকের দিনটি দেশের ফুটবল
ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই এই সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্ত সবাইকে
উপভোগ করা উচিত।”