বদলাচ্ছে হাজারো মানুষের জীবন; ঘটছে অর্থনীতির নীরব বিপ্লব খুলনায় নার্সারি ব্যবসার বিস্তার লাভ
মাসুদ আল হাসান,খুলনা :
বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুলনায় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে নার্সারি ব্যবসা। ফল, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চাহিদা বাড়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত নার্সারি। এ খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেক উদ্যোক্তা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, খুলনার নার্সারি শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত নার্সারির সংখ্যা ৬৮টি এবং অনিবন্ধিত রয়েছে ২২০টি। তবে বাস্তবে নার্সারির সংখ্যা ৪০০-এরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুলতলা ও পাইকগাছা উপজেলায় নতুন নতুন নার্সারি গড়ে উঠেছে, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।
নার্সারিগুলোতে বর্তমানে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, হিমসাগর, ফজলি, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিংসহ নানা জাতের আম, আঠাহীন কাঁঠাল, ভিয়েতনামি নারকেল, সফেদা, বেদানা, মাল্টা, লেবু, লিচু, পেয়ারা, কাজুবাদাম, চন্দন, চুইঝাল, অ্যালোভেরা, গোলাপ, ক্যাক্টাসসহ শতাধিক প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে।
খুলনা জেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এস এম বদরুল আলম বলেন, উন্নত জাতের ও দ্রুত ফলনশীল চারা উৎপাদনে গুটি কলম, জোড় কলম, কাটিং ও বাডিংসহ আধুনিক অঙ্গজ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মাতৃগুণ বজায় থাকার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
জেলার নার্সারিগুলোতে প্রায় আড়াই হাজার দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার উল্লেখযোগ্য অংশ নারী। পাশাপাশি প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা কম দামে চারা কিনে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চারার পাইকারি দাম সাধারণত ৫ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
নার্সারি মালিকদের মতে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ফলজ ও বনজ চারার প্রধান বিক্রির মৌসুম। বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণের উপযোগী পরিবেশ থাকায় এ সময় ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুলের গাছের চারা বিক্রি হয়।
ফুলতলা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বাশার বলেন, উপজেলার অধিকাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস এখন নার্সারি ব্যবসা। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ফল ও ঔষধি গাছের চারা কিনতে আসছেন।
এদিকে নগরীর দৌলতপুর পাবলা এলাকার বাসিন্দা তানভীর আহমেদ উজ্জল জানান, শোভাবর্ধনকারী গাছের পাশাপাশি তিনি নিম, অ্যালোভেরা, গোলাপ, ড্রাগন ও বিভিন্ন ফলের গাছ লাগিয়েছেন। বর্তমানে তার বাড়িতে ছোট আকারের একটি নার্সারির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুস সামাদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে নার্সারি গড়ে তুললে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে ছাদ বাগান ও বৃক্ষরোপণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খুলনা আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব জেলায় পরিণত হবে।