সুন্দরগঞ্জের তারাপুরে জমি বিরোধের শালিস বৈঠকে রক্তক্ষয়ী:সংঘর্ষ চেয়ারম্যানের সামনেই পিটিয়ে হত্যা
শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং তারাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড চাচীয়া মীরগঞ্জ নামক গ্রামে,দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমির নিষ্পত্তির সালিশ বৈঠকে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,আমিনুল ইসলাম লেবু,উপস্থিত থাকা অবস্থায়,মারামারীতে মো.আবদুর রাজ্জাক মিয়া (৫০) নামের এক জনের মৃত্যু হয়েছে।রোববার (৫ জুলাই)দুপুরের দিকে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে।এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা হলেন,ওই গ্রামের মো.গোলজার হোসেন (৬৫), তার ছেলে মো. লিটন মিয়া (২৮), মো. রিপন মিয়া (১৯), মেয়ে মোছাঃ রত্না আক্তার (৩০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫)।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,ওই গ্রামের মৃত আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় দুটি বিয়ে করেছিলেন।প্রথম স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দিলদার রহমানের পরিত্যক্তা স্ত্রী গোলেনুর বেগমকে বিয়ে করেন।গোলেনুর বেগমের আগের স্বামীর ঘরের ছেলে ছিলেন গোলজার রহমান।পারিবারিক সিদ্ধান্তে আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় গোলজার রহমানকে ২২ শতক জমি প্রদান করেন।পরে গোলেনুর বেগম ও আছর উদ্দিনের সংসারে আমজাদ হোসেনের জন্ম হয়।স্থানীয়দের দাবি, ওই ২২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমজাদ হোসেন ও গোলজার রহমানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় আবারও ডাকা হয়েছিলো শালিসি বৈঠক।চেয়ারম্যান মো.আমিনুল ইসলাম লেবু সভাপতিত্বে সালিশ বৈঠকে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন,এরই মধ্যে দু'পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায় হাতাহাতি শুরু হয়।ঐ একেই মিটিং এলাকা বাসী হিসাবে,বিরোধ নিরসনে আশা রাজ্জাক,উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধরের করে,রাজ্জাকের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায়,তাকে সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু বরণ করেন।তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও গন্যমান্য বক্তিবর্গের বক্তব্য অনুযায়ী,এটা কঠিন অন্যায় হয়েছে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে,তারা বলেন একজন চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকা অবস্থায় এত বড় একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেল একটা প্রাণ ঝরে গেল এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়,তিনি যদি শালিসটি ঝুকি মনে করতেন তবে সেটা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদলত ছিল সেখানে নিলেন না কেন,কেনই বা দীর্ঘ দিনের একটা বিরোধ সমাধান হচ্ছে না ঝামেলা হতে পারে,তা জেনেও ইউনিয়ন পরিষদে শালিস না নিয়ে এলাকায় নিলেন,এর দায় ভার কার।এদিকে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায়,ফেসবুক,ইউটিউবে উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এটি ছাড়াও আরো বিভিন্ন অভিযোগ এনে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।