শেষ মুহূর্তেও আম বাজারে প্লাস্টিক ক্রেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
মো : আশরাফুল ইসলাম:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম প্রায় শেষের পথে। বাজার থেকে ঐতিহ্যবাহী বোম্বাই, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ক্ষীরশাপাত জাতের আম প্রায় বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে বাজারে আম্রপালি, ফজলি ও বারি-৪ জাতের আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা চলছে। তবে মৌসুমের শেষ মুহূর্তেও প্লাস্টিক ক্রেটের অস্বাভাবিক মূল্য এবং কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও আমচাষীরা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালি আমের। বাজারে প্রতি মণ আম্রপালি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের ফজলি প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বারি-৪ জাতের আম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমের দাম মোটামুটি সন্তোষজনক থাকলেও প্লাস্টিক ক্রেটের অতিরিক্ত দাম তাদের লাভের বড় একটি অংশ কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র বাজারে ক্রেটের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রতি মৌসুমেই ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, “প্লাস্টিক ক্রেট সিন্ডিকেটের বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে মৌসুমের শেষ সময়েও আমাদের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।”
আমচাষীরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, ক্রেটের বাড়তি খরচের প্রভাব শেষ পর্যন্ত উৎপাদক ও ক্রেতা—উভয়ের ওপরই পড়ছে। এতে আম বিপণনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের লাভ কমে আসছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করে প্লাস্টিক ক্রেটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আগামী মৌসুমে আম ব্যবসায়ীরা স্বস্তি ফিরে পাবেন।