নগর কৃষিতে হাইড্রোপনিক্সের সম্ভাবনা নিয়ে খুলনায় সংলাপ
খুলনা ব্যুরো :
দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির সংকোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নগর কৃষিতে হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে খুলনায় এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শনিবার ৪ জুলাই খুলনা প্রেসক্লাবের সেমিনার কক্ষে ‘নগরায়নে হাইড্রোপনিক্স চাষাবাদের সম্ভাবনা, নারী ক্ষমতায়নে হাইড্রোপনিক্সভিত্তিক বাজারজাতকরণ এবং খুলনা অঞ্চলে ভাসমান চাষাবাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে আপস যুব সংগঠন। দ্য আর্থ সোসাইটির সহযোগিতায় গ্রীন ভয়েস প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুর রহমান এবং প্রকৌশলী সাইফুল্লাহ হক তানভির। উপস্থিত ছিলেন আপস যুব সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা শাহ্ জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও দ্য আর্থ সোসাইটির প্রতিনিধি তাসনীয়া কবীর।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আপস যুব সংগঠনের নির্বাহী প্রধান মো. রেদওয়ানুল ইসলাম রুহান। তিনি নগর কৃষিতে হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তির সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভাসমান চাষাবাদের কার্যকারিতা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া সিদ্দীকা বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। হাইড্রোপনিক্স ও ভাসমান চাষাবাদ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ডা. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় সীমিত জায়গায় অধিক উৎপাদনের জন্য হাইড্রোপনিক্স একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তি। গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এ খাতের আরও বিস্তার সম্ভব।
প্রকৌশলী সাইফুল্লাহ হক তানভির পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শাহ্ জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই কৃষি, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। আলোচনায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ জোরদারে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলে হাইড্রোপনিক্স ও ভাসমান কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, যুব ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা রয়েছে।