সংবাদ শিরোনাম

বিদায় রোনালদো, শেষ আটে স্পেন ও বেলজিয়াম

 প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

বিদায় রোনালদো, শেষ আটে স্পেন ও বেলজিয়াম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নেইমার জুনিয়রের পর খালি হাতে বিশ^কাপ ফুটবল যাত্রা শেষ হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়ে পর্তুগাল। অন্যদিকে শেষ স্বাগতিক দেশ হিসেবে টিকে থাকা মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নিয়েছে। নানা নাটকীয়তার পর বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে শেষ ষোলতেই আটকে গেছে বিশে^র সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির বিশ^কাপ যাত্রা। শেষ ষোলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে শেষ হাসি হাসলো স্পেন। মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগিজদের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশরা। উত্তেজনায় ঠাসা প্রথমার্ধ আর স্নায়ুচাপের দ্বিতীয়ার্ধ শেষে শেষ হাসিটা হাসলো স্পেন। ডালাসে অনুষ্ঠিত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশরা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলটিই পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের মাঝে। আর এই হারের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী দলের লড়াইয়ে মাঠের আবহ ছিল উত্তপ্ত। বল দখলের লড়াইয়ে পাল্লা দিয়ে আক্রমণে উঠে দুদলই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল। 

খেলার ১২ মিনিটের মধ্যেই দুই দল মিলিয়ে অন ও অফ টার্গেটে সাতটি শট নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে ম্যাচটি কতটা আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল স্পেনের সামনে। ওইয়ারজাবাল বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে পর্তুগালের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। সামনে কেবল গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা থাকলেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি; তার শটটি সাইডবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। সেই যাত্রায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় পর্তুগাল। পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে ছিল না পর্তুগালও। স্পেনের আক্রমণের পরপরই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেওয়া বুলেট গতির এক শট গোলমুখে বাধা হয়ে দাঁড়ান উনাই সিমন। স্প্যানিশ গোলরক্ষকের দক্ষতায় সে যাত্রায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় স্পেন। এরপর ম্যাচের ১১তম মিনিটে স্পেনের টানা দুটি আক্রমণ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে পর্তুগাল তাদের সেরা সুযোগটি তৈরি করেছিল। ডানপ্রান্ত থেকে আসা ক্রস থেকে জোয়াও ফিলিক্সের হেড উনাই সিমন ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রোনালদো কৌশলী টোকা দিয়েছিলেন। তবে বাজপাখির মতো ক্ষিপ্রতায় বল তালুবন্দী করে আবারও স্পেনের ত্রাতা হয়ে ওঠেন উনাই সিমন। 

প্রথমার্ধের শেষ দিকে নুনো মেন্ডিসের দুর্দান্ত একটি শট স্প্যানিশ রক্ষণভাগের কল্যাণে গোলবার স্পর্শ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের চিত্র অবশ্য ছিল ভিন্ন। প্রথমার্ধের রোমাঞ্চের বিপরীতে দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে পর্তুগাল। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণে পর্তুগিজদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় গোল বাঁচানো। গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই যখন ম্যাচ এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে স্পেনের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন মিকেল মেরিনো। তার দুর্দান্ত গোলটিই স্পেনকে পৌঁছে দেয় জয়োল্লাসে। দীর্ঘ লড়াই শেষে মাঠ ছাড়তে হয় হৃদয় ভাঙা বিদায় নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। এদিকে দাপুটে জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম, বিদায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বেলজিয়াম। সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোলের সঙ্গে হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর একটি করে গোলে দাপুটে জয় তুলে নেয় রেড ডেভিলস। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান। 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। ম্যাচের নবম মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডি কেটেলারে। ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। মালিক টিলম্যানের নেওয়া শট হান্স ভানাকেনের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ালে বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কিছই করার ছিল না। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসারের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারে। তাতেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধাক্কা দেয় তাদের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের ভুল। ৫৭তম মিনিটে ফ্রিসের ভুল পাস ডি কেটেলারের পায়ে লেগে হান্স ভানাকেনের সামনে চলে আসে। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি। শেষ দিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। বরং যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement