বিতর্কিত বিদায়ে হারলেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছে মিশর ফুটবল দল
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও কোটি মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছে মিশর। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ও বিতর্কিত হারের পর গাজা থেকে শুরু করে বিশ্বনেতা, সাবেক ফুটবলার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসংখ্য ব্যবহারকারী মিশর দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় মিশর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ৮৩তম মিনিটে লিওনেল মেসি সমতা ফেরান, আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করেন।
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মিশরের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার কয়েকটি ফাউল আমলে নেননি রেফারি। এছাড়া ভিএআরের সিদ্ধান্তে মোস্তাফা জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়। এ সময় মিশরের চারজন হলুদ কার্ডও দেখেন, যার মধ্যে কোচ হোসাম হাসানও ছিলেন। ম্যাচ চলাকালে হাসান বর্ণবাদবিরোধী ফিফা প্রোটোকল চালুর সংকেত হিসেবে দুই হাত দিয়ে ‘এক্স’ চিহ্ন দেখালেও রেফারি খেলা থামাননি।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশরের প্রতি সমর্থনের ঢল নামে। মিশর ফুটবল ফেডারেশন দলকে অভিনন্দন জানিয়ে জানায়, তারা দেশের জন্য গর্বের ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও দলের ‘সম্মানজনক পারফরম্যান্সের’ প্রশংসা করেন। গাজার অনেক সমর্থক জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও বড় পর্দায় বসে তারা ম্যাচ দেখেছেন এবং প্রতিটি মিশরীয় গোলেই আনন্দে কেঁদেছেন।
মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে রেফারিংকে ‘স্পষ্ট অবিচার’ বলে মন্তব্য করেন। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার জেমি ক্যারাঘারও গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনহো এই ম্যাচকে ‘দিনদুপুরের ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কোচ হোসাম হাসান বলেন, তাদের একটি পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল, গোলও অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দেশে ফেরার আগে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন মোহাম্মদ সালাহ ও তার সতীর্থরা।