সংবাদ শিরোনাম

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর ধর্মান্তরিত তাওহিদ ইসলাম ওরফে হরিদাস সিআইডির হাতে আটক

 প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন   |   রংপুর

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর ধর্মান্তরিত তাওহিদ ইসলাম ওরফে হরিদাস সিআইডির হাতে আটক

শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

ছদ্দবেশী প্রতারক হরিদাস পাল পলাশবাড়ীতে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিবমূর্তি নির্মাণ করা,ধর্মান্তরিত তাওহীদ ইসলাম ওরফে হরিদাস সিআইডি হাতে আটক।১২ জুলাই রবিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় হরিদাস কে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী মন্দীর এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।উল্লেখ হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অবৈধ উপায়ে ভারতে আত্মীয়ের বাসায় চলে যান।সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে থেকে এতিম সার্টিফিকেট নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন ও ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসা ভাড়া নেন।সেখানেই বিয়ে ও ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।

সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাস র‍্যাবকে জানান,তার শ্বশুরের পরিচয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করেন।শ্বশুড়ের মাধ্যমে এলাকার লোকের সাথে নিজেকে একজন বিত্তশালী লোক হিসেবে পরিচিত হন।পাশাপাশি প্রচার করতে থাকেন,তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার।দামি গাড়ি হাঁকিয়ে এবং পোশাক পরিধান করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে তোলেন।প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রজেক্টে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অর্থ এবং উন্নয়ন মূলক কাজ করতে তাদেরকে আশ্বস্ত করতেন।তার মিষ্টি আচরণে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকরি,বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির নিয়ে তার কাছে আসা শুরু করেন।তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকরি প্রত্যাশী,পছন্দমত জায়গায় বদলি, সরকারি চাকরি,বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় ও উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাজ বাগিয়ে এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত শুরু করেন।এ সময় র‍্যাব আরো জানায়, হরিদাসের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ইমরান মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত তার বিভিন্ন সহযোগীসহ অন্যান্য ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করে হরিদাসের নিকট নিয়ে আসতেন।

এ সময় হরিদাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন পদে চাকরি,পদোন্নতি এবং দলীর বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করেন।মজার ব্যাপার হলো-কমান্ডার মঈন বলেন,গ্রেফতারকৃত হরিদাস অত্যন্ত বচনপটু। একবার তার সাথে কেউ পরিচিত হলে তার প্রতারণার খপ্পর হতে বের হতে পারতো না।তিনি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ২০১৯ সালে ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি ক্রয় করে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে রিসোর্টের কাজ শুরু করেন।সেখানে তার প্রলোভনে পড়ে অনেকেই টাকা লেনদেনের রসিদ ছাড়া তাকে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করেন।

২০২০ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্টের কাজ শেষে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০ টাকা এবং রিসোর্টের ভিতরে ঘোরাঘুরির জন্য ৫০ টাকা করে টিকেট বিক্রি করা শুরু করেন অনেকে বিবাহ, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তার রিসোর্ট ভাড়া নিতে থাকে।শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তিদের তার রিসোর্টে আমন্ত্রণ জানাতেন।

এসময় তাদেরকে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এডিট করা ছবি প্রদর্শন করে তার প্রজেক্টসহ অন্যান্য প্রজেক্টে বিনিয়োগ করার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেন।প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, তার মোবাইলে বিভিন্ন নম্বর প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের এবং তাদের নিকটাত্মীয়ের বিভিন্ন সদস্যদের নামে সেইভ করে ও কল দিয়ে দেখাতেন। নিজেকে প্রভাবশালী বলে জাহির করতেন। যদিও প্রকৃতপক্ষে তার কোন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর সাথে পরিচয় নেই।তার কোন দলীয় পরিচয় নেই। প্রতারণা করে অর্থ উপার্জনই তার মূল লক্ষ ও পেশা।সুতরাং উল্লেখিত প্রতারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র যেহেতু র‍্যাবের হাতে আটক হয়ে,পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গাইবান্ধা জেলা ও পলাশবাড়ি উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ সকল মহলকে ম্যানেজ করে পলাশবাড়ির কোমরপুরে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দাবি করে রাধা গোবিন্দের মন্দির স্থাপন করেন।জনমনে একটাই প্রশ্ন সাধারণ ঘরের একজন ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি হয়ে কিভাবে কোটিপতির বনে চলে গেলেন।তাই তার টাকার উৎস খুঁজতে,তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement