সংবাদ শিরোনাম

বারবার বদলাবে ব্রিটেন, বিশ্ব তাকিয়ে বার্নহামের দিকে

 প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বারবার বদলাবে ব্রিটেন, বিশ্ব তাকিয়ে বার্নহামের দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো বার্নহাম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তিনি তাকে মূলত একজন “শহরের মেয়র” হিসেবে দেখছেন এবং ধারণা করছেন, বার্নহাম হয়তো “অত্যন্ত উদারপন্থী” রাজনীতিবিদ। তবে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই নতুন ব্রিটিশ সরকারের নীতি নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ব্রিটেন যেন প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ায় এবং বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। বিশেষ করে তারা চান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার যেন দায়িত্বে থাকেন। বার্নহামের জন্য চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনি সুযোগও আছে,ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার।

চীন বার্নহামের দিকে নজর রাখছে অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দৃষ্টিতে। অতীতে বার্নহাম চীনের উচ্চগতির রেল ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি,দুই দিকই বিবেচনা করতে হবে। চীনের কর্মকর্তারা ব্রিটেনের ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন নিয়েও হতাশ।

রাশিয়ার কাছে ব্রিটেন এখনো মস্কোর অন্যতম কঠোর সমালোচক দেশ। ক্রেমলিন মনে করছে, বার্নহাম ক্ষমতায় এলেও রাশিয়া নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে না। বার্নহাম ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করে আসছেন।

ইউক্রেনও ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। দেশটি চায়, নতুন প্রধানমন্ত্রী যেন রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় আগের মতোই সামরিক সহায়তা ও সমর্থন চালিয়ে যান। কারণ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর বার্নহাম হবেন ব্রিটেনের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী।

ইউরোপীয় দেশগুলোও দেখছে বার্নহাম প্রতিরক্ষা ও ইউক্রেন ইস্যুতে কী অবস্থান নেন। ফ্রান্স আশা করছে, বার্নহাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মতোই ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ ধরে রাখবেন।

ভারতের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। দিল্লি আশা করছে, যুক্তরাজ্য-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন হবে না।

সব মিলিয়ে, অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় পরীক্ষা,দেশের ভেতরের রাজনীতি সামলানোর পাশাপাশি ট্রাম্প, পুতিন, চীন ও ইউরোপের মতো শক্তিধর পক্ষগুলোর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি করা।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement