সংবাদ শিরোনাম

জাপানে শিশুর চেয়ে পোষ্যের বাজার এখন বড়

 প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

জাপানে শিশুর চেয়ে পোষ্যের বাজার এখন বড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাপানে এখন শিশু নয়, বরং পোষা প্রাণীকেই ঘিরে দ্রুত বাড়ছে ব্যবসা। জন্মহার কমে যাওয়ায় একসময় শিশুদের জন্য পণ্য তৈরি করা বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন ঝুঁকছে কুকুর-বিড়ালের বাজারে। ফলে দেশটির পেট কেয়ার শিল্পে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

জাপানে বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর তুলনায় পোষা প্রাণীর সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির পেট কেয়ার বাজারের মূল্য ছিল ৮৮০ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলার), যা ২০২০ সালের ৬৮৯.৬ বিলিয়ন ইয়েন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়েছে ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপানের পুরোনো বেবি ক্যারিয়ার নির্মাতা লাকি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী শিন ওহতা নিজের ৫ কেজি ওজনের টয় পুডলকে কোলে বহন করতে গিয়ে নতুন ধারণা পান। পরে একজন পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ২০২২ সালে তারা কুকুর বহনের বিশেষ হিপ ক্যারিয়ার ‘Nu-i’ বাজারে আনে।

শুধু লাকি ইন্ডাস্ট্রিজই নয়, ইউনিচার্ম, এয়ারবাগি ও সুইট মমি-র মতো প্রতিষ্ঠানও শিশুদের ডায়াপার, স্ট্রলার ও অন্যান্য পণ্যের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পোষা প্রাণীর জন্য নতুন নতুন পণ্য তৈরি করছে। ইউনিচার্ম জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের মোট বিক্রির ১৭ শতাংশ এসেছে পেট কেয়ার বিভাগ থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ২০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।pl

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে বিয়ে দেরিতে করা, সন্তান না নেওয়া, একাকীত্ব এবং ছোট পরিবার বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক মানুষ পোষা প্রাণীকেই পরিবারের সদস্য, এমনকি সন্তানের মতো দেখছেন। তাই তারা পোষ্যের জন্য উন্নতমানের খাবার, পোশাক, ডায়াপার, স্ট্রলারসহ নানা পণ্যে খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

জার্মান ইনস্টিটিউট অব জাপান স্টাডিজের সমাজবিজ্ঞানী বারবারা হোলথুসের ভাষায়, জাপানে এখন ‘মাল্টি-স্পিসিজ ফ্যামিলি’ বা মানুষ ও পোষা প্রাণীকে নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবারের ধারণা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। আর জন্মহার কমে যাওয়ায় শিশু-কেন্দ্রিক কোম্পানিগুলোর জন্য পোষা প্রাণীর বাজারই হয়ে উঠছে নতুন আয়ের বড় ভরসা।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement