সংবাদ শিরোনাম

নাইজেরিয়ার ড্রোনে বদলাবে আফ্রিকার প্রতিরক্ষা ভবিষ্যৎ

 প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নাইজেরিয়ার ড্রোনে বদলাবে আফ্রিকার প্রতিরক্ষা ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আফ্রিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল। এবার সেই নির্ভরতা কমাতে নাইজেরিয়ার একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে নিজস্ব ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি, তবে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই আফ্রিকার প্রতিরক্ষা স্বাধীনতা আনতে পারবে?

নাইজেরিয়ার আবুজাভিত্তিক স্টার্টআপ টেরা ইন্ডাস্ট্রিজ (Terra Industries) ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি টাওয়ার এবং চালকবিহীন স্থলযান তৈরি করছে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের তৈরি প্রযুক্তির ৭০ শতাংশের বেশি উপাদান স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির তৈরি আইরোকো (Iroko) ও আর্চার (Archer) ড্রোন এখন আফ্রিকার আটটি দেশ ও কানাডায় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা,বিদ্যুৎকেন্দ্র, খনি, তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে টেরা।

টেরা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী নাথান নওয়াচুকু বলেন, পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলো জলদস্যুতা ও অবৈধ মাছ ধরা ঠেকাতে নজরদারি প্রযুক্তি চায়। অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্রোহ দমন এবং তেল-গ্যাস অবকাঠামো রক্ষায়ও ড্রোনের চাহিদা বাড়ছে।

কোম্পানিটি ঘানায় দ্বিতীয় উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ড্রোন উৎপাদন কারখানা হবে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বছরে ৫০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

টেরার এই অগ্রগতিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩৪ মিলিয়ন ডলার বীজ বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে, যেখানে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ভিসি, লাক্স ক্যাপিটাল ও ভ্যালর ইক্যুইটি পার্টনার্সের মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তি তৈরি করলেই প্রতিরক্ষা স্বাধীনতা আসে না। এর জন্য দরকার স্বচ্ছ ক্রয়ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা, দক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

প্যান আফ্রিকান সাসটেইনেবল, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের (PASIDA) পরিচালক জেনিস গ্রিভার সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে পুরনো নির্ভরতার জায়গায় নতুন ধরনের নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে ড্রোন হামলা বাড়ায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রয়োজন আরও বেড়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত জেএনআইএম (JNIM) ২০২৩ সাল থেকে ১০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

নাইজেরিয়ার ড্রোন শিল্প আফ্রিকার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নতুন দিগন্ত খুলছে। তবে কারখানার বাইরে,সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতাই ঠিক করবে এই উদ্যোগ সত্যিকারের প্রতিরক্ষা স্বাধীনতায় রূপ নেবে কি না।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement