যুক্তরাষ্ট্র হামলায় ফের যুদ্ধশঙ্কায় কাঁপছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের টানা সামরিক হামলায় আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, আর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন ইরানের সাধারণ মানুষ।
গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তিন দফার অভিযানে ৩০০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে ইরানের দাবি, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির অন্তত ১০টি প্রদেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালীর আশপাশে।
রাজধানী তেহরানে এখনো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই বজায় থাকলেও মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ২১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা আল জাজিরাকে বলেন, তিনি আশা করছেন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ আর শুরু হবে না। আরেক বাসিন্দার ভাষায়, সাম্প্রতিক হামলা আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ মনে হচ্ছে এবং সামনে আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও ওমানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে।
হামলায় হরমুজগান, বুশেহর, সিস্তান-বেলুচিস্তান, খুজেস্তান, লোরেস্তানসহ একাধিক প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার কাছেও হামলা হলেও সেটি অক্ষত রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া রেলপথ, বন্দর, উপকূলীয় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টাভানিরের তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে দেশটির প্রায় ৪,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে।
এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননে সামরিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র:আলজাজিরা