ট্রাম্পের ছায়ায় বদলে গেলেন লিন্ডসে গ্রাহামের রাজনীতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ২৩ বছর ধরে মার্কিন সিনেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনীতির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল কঠোর পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন এবং ইরানের সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান।
২০০২ সালে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রাহাম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক সিনেটর জন ম্যাককেইনের সঙ্গে। তখন তিনি ছিলেন এমন এক রাজনীতিক, যিনি দলীয় বিভাজন কমিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গেও কাজ করার পক্ষে কথা বলতেন।
২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় গ্রাহাম বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে হোয়াইট হাউসে একটি বার খুলবেন, যেখানে সবাই মিলে সমস্যার সমাধান করবেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের সময় তার অবস্থান পুরোপুরি বদলে যায়।
ট্রাম্প যখন ম্যাককেইনের যুদ্ধবন্দি থাকার বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন, তখন গ্রাহাম তাকে তীব্র সমালোচনা করে "জ্যাকাস" বলে আখ্যা দেন। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পকে "বিভেদমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ" বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিলে দলকে এর মূল্য দিতে হবে।
তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর গ্রাহামের অবস্থান পাল্টে যায়। ধীরে ধীরে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে ওঠেন। দুই নেতা একসঙ্গে গলফ খেলতেন এবং টেলিভিশনেও গ্রাহাম নিয়মিত ট্রাম্পের নীতি সমর্থন করতেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় সুপ্রিম কোর্ট মনোনীত বিচারপতি ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর গ্রাহাম তার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। তার ভূমিকা কাভানার অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তাদের সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর গ্রাহাম বলেছিলেন, "যথেষ্ট হয়েছে, আমাকে বাদ দিন।"
কিন্তু সেই দূরত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০২১ সালের অভিশংসন বিচারে গ্রাহাম ট্রাম্পকে দায়মুক্তির পক্ষে ভোট দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবারও তার সমর্থনে দাঁড়ান।
ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর গ্রাহাম তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিচারপতি মনোনয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করেন। ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহায়তার কথা বললেও রাশিয়া নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা করেননি।
গ্রাহামের মৃত্যুর পর রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনা থেকে আবারও সিনেট নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং দলীয় মনোনয়নও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেয়েছিলেন।
এখন রাজ্যের গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য তার জায়গায় একজনকে নিয়োগ করবেন। এরপর রিপাবলিকান পার্টি নতুন প্রার্থী বেছে নেবে, যিনি নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
লিন্ডসে গ্রাহামের উত্তরসূরি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহাম রেখে গেলেন এমন এক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, যেখানে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল ছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
সূত্র: বিবিসি