মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে আটকালো বসতি স্থাপনকারীরা, তুমুল বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সফরকালে মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্নার গাড়ি এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-ইসরায়েল মহলের সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না জানান, গত ৯ জুলাই তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে যাওয়ার পথে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তার ভ্যান প্রায় ২০ মিনিট আটকে রাখে। পরে ইসরায়েলি সেনারাও সেখানে এসে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পুরো ঘটনা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি সেখান থেকে বের হতে পারেন।
ঘটনার পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেইটার দাবি করেন, খান্না ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সফরের সমন্বয় না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খান্না ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটির ভিডিও পরে প্রকাশ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে খান্না বলেন, তিনি আগেই সফরের বিষয়ে ইসরায়েলকে জানিয়েছিলেন এবং যারা তার গাড়ি আটকে রেখেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা শুধু রাস্তা আটকে রাখা বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এনবিসি নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মিথ্যা বলছে।” তার অভিযোগ, সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, গাড়ির টায়ারে লাথি মেরেছে এবং পুরো সময় সেনারা তাদের পথ আটকে রাখতে সহযোগিতা করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গ্রেগ মারফি এটিকে প্রচারের কৌশল বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন বলেন, একজন মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে বিদেশি সশস্ত্র ব্যক্তিরা হয়রানি করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া না আসা উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২০২৪ সালে রায়ে জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল ও সেখানে বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও নিহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
সূত্র: আলজাজিরা