সংবাদ শিরোনাম

সানায় বিমানবন্দর ঘিরে সংঘাত, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুথিরা

 প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সানায় বিমানবন্দর ঘিরে সংঘাত, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালায়। সরকারের দাবি, ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে দেশটিতে আবারও বড় ধরনের সহিংসতা শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের জাতীয় এয়ারলাইন্সের বিমানকে রাজধানী সানার বিমানবন্দরে অবতরণ করতে দেয়নি। বরং তারা ইরানি বিমানকে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে নামার ওপর জোর দেয়। এ কারণেই বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিমানবন্দর এলাকা ও আশপাশের স্থান থেকে বেসামরিক মানুষ, কর্মরত কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

পরে হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, তেহরান থেকে একটি প্রতিনিধিদল বহনকারী ইরানি বিমান নিরাপদে পশ্চিম উপকূলীয় শহর হোদাইদাহে অবতরণ করেছে।

হুথিদের পরিবহনমন্ত্রী আল-মাসিরাহকে বলেন, ইরানি বিমানটি চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগী, বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ইয়েমেনি নাগরিক এবং ইয়েমেনের একটি সরকারি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে দেশের মাটিতে পৌঁছেছে।

সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে হুথিরা পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, "এই আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং এর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"

অন্যদিকে ইরানও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সোমবার সন্ধ্যায় ইয়েমেনে অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ সৌদি আরবের আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

পরে হুথিরা দাবি করে, তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করতে সব বিমান সংস্থাকে সতর্কও করে তারা।

চলতি মাসের শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। হুথিদের অভিযোগ, সানায় অবতরণ ও পরে প্রতিনিধিদল নিয়ে উড্ডয়নের সময় একটি ইরানি বিমানকে সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। এরপর তারা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি অভিযোগ করেন, হুথিরা সানার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির একটি বিমান আটকে রেখেছে এবং এর পাইলট ও সহ-পাইলটকে জিম্মি করে রেখেছে।

এর আগে সোমবার ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইয়েমেনের আকাশসীমায় ইরানি বিমানের প্রবেশ বন্ধে কূটনৈতিক সব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বৈরী বিমান ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে সরকার সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে তার জবাব দেবে। এ জন্য ইরানকেই দায়ী করেন তিনি।

২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে উৎখাত করার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, উত্তেজনা প্রশমনে সব পক্ষের সঙ্গে তাঁর দপ্তর যোগাযোগ রাখছে। নতুন করে সহিংসতার চক্র এড়াতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement