সংবাদ শিরোনাম

জর্ডানের পর কুয়েত-বাহরাইনেও ইরানের হামলা, লক্ষ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

 প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

জর্ডানের পর কুয়েত-বাহরাইনেও ইরানের হামলা, লক্ষ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জর্ডানে হামলার পর এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তেহরান এ অভিযানের নাম দিয়েছে 'চোখের বদলে চোখ'

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের হামলায় মার্কিন বাহিনীর একটি ড্রোন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং একটি পি-৮ সামরিক বিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর থাকায় হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এরপর অভিযানের তৃতীয় ধাপে কুয়েতের আলী আল-সালেমআহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানায় আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলী আল-সালেম ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বাঙ্কার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিকস স্থাপনাকে লক্ষ্য করে তাদের ড্রোন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম দফার অভিযানে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। ধারাবাহিক এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে বর্ণিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মূলত ইরানের আইআরজিসি ও সামরিক বাহিনীর দাবির ভিত্তিতে। এসব দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement