বিশ্বকাপে বিতর্কিত রেফারিংয়ে ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মিসর
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিসর। বিতর্কিত রেফারিং ও ভিএআর ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
মঙ্গলবারের ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় দলটিকে। ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্তই ফল বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, ম্যাচের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ফুটবল বিশ্লেষকও এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রেফারিংয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করে তারা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইএফএ সভাপতি হানি আবু রিদা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ম্যাচের ৬২তম মিনিটে। মিসরের মোস্তাফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। কারণ, গোলের আগে আক্রমণ তৈরির সময় মিসরের এক খেলোয়াড়ের ফাউল হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন কর্মকর্তারা। ম্যাচের শেষ দিকে হামদি ফাতি পেনাল্টির আবেদন করলেও সেটি নাকচ করা হয়। এরপরই ৯২তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।
চীনের সাংহাইভিত্তিক এমলিওন বিজনেস স্কুলের ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক বলেন, মাঠের রেফারি যেখানে ফাউল দেননি, সেখানে ভিএআর কেন বিষয়টি সামনে আনল—এটাই বড় প্রশ্ন। তার মতে, দর্শকদের কাছে ভিএআর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলে এমন বিতর্ক অনেকটাই কমে যেত।
ম্যাচ শেষে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহও হতাশা প্রকাশ করেন। সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক রব গ্রিন, সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার, সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট এবং সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘারও ভিএআরের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও ন্যায়সংগত প্রয়োগ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।