ট্রাম্পের ন্যাটো বক্তব্যে একের পর এক মিথ্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া একাধিক বক্তব্যকে তথ্যভিত্তিক যাচাইয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে সিএনএন। বিনিয়োগ, নির্বাচন, অভিবাসন, ভেনেজুয়েলা এবং তেলের দামসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার বেশ কয়েকটি দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বর্তমান মেয়াদের মাত্র এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। তবে সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা বাস্তব নয়। এমনকি হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ১০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণার কথা বলা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ বাস্তব বিনিয়োগ নয়; বরং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ঘোষণা।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি কারখানা নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, উৎপাদন খাতের নির্মাণ ব্যয় তার দ্বিতীয় মেয়াদে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে উৎপাদন খাতে নির্মাণ ব্যয় ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম ছিল।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও পুরোনো দাবি পুনরাবৃত্তি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল "কারচুপির"। তবে বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প আবারও অভিযোগ করেন, তিনি কারাগারের বন্দীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ভেনেজুয়েলা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞও জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
অভিবাসন ইস্যুতেও ট্রাম্প দাবি করেন, জো বাইডেনের আমলে ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। কিন্তু সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের পুরো সময়জুড়ে মোট সীমান্ত 'এনকাউন্টার' ছিল ১ কোটি ১০ লাখেরও কম। ফলে ট্রাম্পের এই দাবিও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
এ ছাড়া ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম তার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের চেয়েও কম। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, তার উল্লেখ করা সময়ের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বর্তমানে কিছুটা বেশি রয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির পর দাম কমেছিল, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে আবারও তা বাড়তে শুরু করেছে।
সূত্র:সিএনএন