সংবাদ শিরোনাম

আঙ্কারা সম্মেলনে শক্তিশালী ন্যাটোর ভিত্তি গড়ল তুরস্ক

 প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আঙ্কারা সম্মেলনে শক্তিশালী ন্যাটোর ভিত্তি গড়ল তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে আঙ্কারা সম্মেলন—এমনটাই দাবি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর ভাষায়, এই সম্মেলন শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলাই নয়, বরং জোটের ভবিষ্যৎ পথও নির্ধারণ করবে।

বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ২২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার এবং রাজধানী আঙ্কারায় প্রথমবারের মতো ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজন করে তুরস্ক সফলভাবে একটি “ঐতিহাসিক” আয়োজন সম্পন্ন করেছে। ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কঠিন পরীক্ষার মুখে থাকা এই সময়ে সম্মেলনটি একটি শক্তিশালী ন্যাটোর ভিত্তি গড়ে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এরদোয়ান বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের অনেক দেশ শান্তির সুফল পেলেও তুরস্ককে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সংকট ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক সময় দেশটি একা থেকেছে এবং বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তাই নিজেদের সক্ষমতার ওপর ভর করেই প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তুলতে হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের দিক থেকে তুরস্ক ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

তিনি জানান, ন্যাটোতে তুরস্কের অবদান আরও বাড়ানো হবে। বর্তমানে তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবাহিনী এবং দীর্ঘদিন ধরে জোটের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশটি। আগামী আগস্ট থেকে এস্তোনিয়ায় ন্যাটোর এয়ার পুলিশিং মিশনে তুর্কি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কসোভোতে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন কেএফওআর মিশনের নেতৃত্ব দেবে তুরস্ক এবং ২০২৮-২০২৯ সালে ন্যাটো রেসপন্স ফোর্সেরও নেতৃত্ব দেবে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজস্বভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ন্যাটো দেশের একটি হলো তুরস্ক। একই সঙ্গে ড্রোন, নৌ-ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ উৎপাদনেও দেশটি বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোকেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা উদ্যোগ নিয়েও বক্তব্য দেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ইইউর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা যেন ন্যাটোর পরিপূরক হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। পাশাপাশি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে যে সীমাবদ্ধতাগুলো এখনো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত এবং শর্তহীনভাবে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement