সংবাদ শিরোনাম

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন—আইনমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন—আইনমন্ত্রী


প্রধান প্রতিবেদক:

ঢাকা, ৯ জুলাই: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হওয়ায় আগামী (চতুর্দশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ইনশাল্লাহ, এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।"

এর আগে একই দিনে আপিল বিভাগের আদেশের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা সব আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্ট তার রায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানের ৭ক ও ৭খ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত। আপিল বিভাগের আদেশের মাধ্যমে এসব পর্যবেক্ষণ ও রায় কার্যকরভাবে বহাল থাকল।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং সংবিধানের ৫৪টি ধারায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়।

এ ছাড়া সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হয়েছিল।

সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, সেটিই চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement