জ্বালানির দামে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বড় ধাক্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকাল মানেই ছুটির আমেজ আর ভ্রমণের ব্যস্ততা। তবে এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বিমান ভাড়া ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় লাখো মানুষ ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন, যা দেশটির পর্যটন ও বিমান খাতের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এনপিআর, পিবিএস নিউজ ও মারিস্ট কলেজের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ বাড়তি খরচের কারণে এ গ্রীষ্মে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন না। গত বছরের তুলনায় এ হার ২ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে ৪ জুলাইয়ের তিন দিনের ছুটিতে দেশটির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি চেকপয়েন্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার হয়েছে ৭৩ লাখের বেশি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে জেট ফুয়েলের দামে, ফলে বিমান ভাড়াও দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিমান ভাড়া ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। একই কারণে আমেরিকান এয়ারলাইন্সও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের কিছু রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে। আর দীর্ঘ তিন দশকের কার্যক্রম শেষে বাজেট এয়ারলাইন স্পিরিট এয়ারলাইন্স মে মাসে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালেই এয়ারলাইন্সগুলোর মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে। কিন্তু জ্বালানির বাড়তি খরচ ও অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা ও পরিকল্পনা করতে পারছে না। একই সংকট ইউরোপের বিমান খাতেও দেখা যাচ্ছে। লুফথানসা খরচ কমাতে দুই লাখ স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে ভাড়া বাড়িয়েছে।
তবে বিমান ভাড়া বেড়ে গেলেও সড়কপথে ভ্রমণের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, ৪ জুলাইয়ের ছুটিতে সড়কপথে ভ্রমণকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ১৪ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম এখনও প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৯ ডলার, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জ্বালানির দাম বাড়বে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ খাত ও সাধারণ মানুষের খরচের ওপর।