সংবাদ শিরোনাম

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে আবার

 প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে আবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা টালমাটাল হয়ে পড়তেই নতুন করে ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিনের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চান না, তবে প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

৮ জুলাই বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারাক, চাবাহার, বুশেহর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আক কালা শহরে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক সরঞ্জামসহ মোট ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কুয়েতে দুটি এবং বাহরাইনে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলে অঞ্চলের আরও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এর আগের দিন, মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই হামলায় ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয় বলে সেন্টকম জানিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় বিমান ও নৌবাহিনীর আট সদস্য নিহত হন।

দুই দেশের মধ্যে গত জুনের মাঝামাঝি যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, তার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ থেকেই যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের ব্যবস্থা নির্ধারণের অধিকার তাদেরই।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর জবাব দেবে। তবে তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এবং আলোচনার পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের নতুন সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেন। তাদের মতে, নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে আরও প্রাণহানি ঘটবে এবং মার্কিন জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় হবে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement