সংবাদ শিরোনাম

রেকর্ড অক্ষুন্ন রেখে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

 প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

রেকর্ড অক্ষুন্ন রেখে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রত্যাশিত জয়ে ফাইনালে পৌছে গেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্ব কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ঠাই নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। অথচ এই ম্যাচেও ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর মাত্র ৭ মিনিটের ঝড়ে দারুণ আর রোমাঞ্চকর জয় অনেক প্রশ্নের জবাবও দেওয়া হয়েছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে স্লোগান ‘ফুটবল ইজ কামিং হোম’। ইংল্যান্ড ৮৪তম মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে। ১৯৬৬ সালের পর আবার ফাইনালের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। কে জানত সাত মিনিটের আর্জেন্টাইন ঝড়ে লন্ডভন্ড হবে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টমাস টুখেল ইউরোপে শীর্ষ কোচদের একজন। ৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে দুর্বলতা নকআউট পর্ব থেকে প্রকাশ্যে। ইংল্যান্ড লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক কৌশলে না গিয়ে রক্ষণভাগে বেশি মনোযোগ দেয়। আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে। এটা জেনেও টুখেল ডিফেন্স মন্ত্র বেছে নেন। সেটা যে টেকসই নয়, মিনিট দশেকের মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। মেসি, লাউতেরো মার্টিনেজেদের আক্রমণে ইংল্যান্ড ডিফেন্স  ভেদ হয়েছে বারবার। পিকফোর্ড একবার গোললাইন সেভ করেছেন। 

এরপর আরেকবার পোস্ট লেগে ফেরত আসে। ৮৪ মিনিট পার হওয়ার পর ইংলিশরা একটু হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল। আর মিনিট দশেক। স্কালোনির আর্জেন্টিনা দমার নয়। মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে খেলা বের করেছে। ঐতিহাসিক দ্বন্ধ থাকা ইংল্যান্ডের সাথে তো শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়বে। ৮৫ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে  কোনাকুনি শট নেন এনজো ফার্নান্ডেজ। ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ব্লক করতে পারেননি। পিকফোর্ড ঝাপিয়ে পড়েও ব্যর্থ। বল জালে জড়ানোর সাথে সাথে আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাস। গোল হজমের পর ইংল্যান্ড আরো দমে যায়। আর্জেন্টিনা উজ্জীবিত ফুটবল খেলে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মেসি ডান প্রান্ত ক্রস করেন। ইংলিশ ডিফেন্ডাররা লাফিয়েও বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। লাউতারো হেডে বল জালে জড়ালে ইংলিশরা স্তব্ধ হয়। সাত মিনিটের মধ্যে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়। ইনজুরি সময় ৯ মিনিট। এই সময়ে গোল করে খেলায় ফেরার নজির রয়েছে এই বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ড আক্রমণই সেভাবে করতে পারেনি। 

উল্টো মেসি আর্জেন্টিনাকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার উল্লাস। গ্যালারির সামনে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে নাচলেন গাইলেন মেসিরাও। এই জয় অন্য সব ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বন্ধ, হ্যান্ডস অফ গড, সেঞ্চুরি গোল অনেক ইস্যু। মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলেই জিতলেন। পুরো ম্যাচে তিনি লড়েছেন। দুটি গোলই তারই যোগান দেওয়া। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের ভুলে গোল পেয়েছিল। গোল পাওয়া পর নিজেরা চুপসে যায়। আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার না হারার রেকর্ড অক্ষত থাকল। নিউজার্সিতে আগামী রবিবার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও হার মানেনি আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত সমতাসূচক গোলের তিন মিনিট পরই লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচ দিয়ে আবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৭ মিনিটে যেন নতুন করে লেখা হলো মেসিদের রূপকথা।

এবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের শেষ প্রতিপক্ষ স্পেন। তবে এই চিরপ্রতিদ্বন্ধীর এই লড়াইয়ে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণের চেয়ে বেশি লড়েছে মাঝমাঠের দখল নিয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল ফাউল, সংঘর্ষ আর স্নায়ুযুদ্ধ। ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পান এনজো ফার্নান্দেজ, তবে তার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্তে জেড স্পেন্সকে কাটিয়ে নিখুঁত ক্রস তোলেন মেসি। দূরের পোস্টে অরক্ষিত থাকা লাওতারো মার্তিনেজ হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে দেন। আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের পাতায় নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১২তম অ্যাসিস্ট (গোল করানো)। ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে তিনি এই চোখধাঁধানো কীর্তি গড়লেন। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে এই যাত্রার শুরু হয়েছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান বিশ্বকাপের প্রতিটি বিশ্বকাপেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর এই ধারা বজায় রেখেছেন তিনি। ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement