সংবাদ শিরোনাম

সরকারি দাম কার্যকর হয়নি খুলনায়, এলপি গ্যাসে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত গুনছেন ক্রেতারা

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সরকারি দাম কার্যকর হয়নি খুলনায়, এলপি গ্যাসে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত গুনছেন ক্রেতারা

খুলনা ব্যুরো :

সরকার নির্ধারিত মূল্য ঘোষণার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুলনায় খুচরা বাজারে সেই দামে মিলছে না ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। সরকারি দামের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ১২ কেজির বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৬২০ টাকা, বেক্সিমকো ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং সেনা ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ২ জুলাই ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করে।

বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ খরচ ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় সরকারি দামে বিক্রি করলে তাদের লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের মুখে পড়তে হবে। নগরীর খালিশপুর বি আই ডিসি রোডের একটি প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবসায়ী জানান, কোম্পানি থেকে সিলিন্ডার আনা, পরিবহন এবং গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচ যোগ করলে সরকারি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

তবে ব্যবসায়ীদের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ অনেক ভোক্তা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সমন্বিতভাবে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রি করছেন।

দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা দিলরুবা ইয়াসমীন বলেন, সরকার দাম কমালেও বাস্তবে তার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেন বয়রা এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, বাজারে সরকারি মূল্য কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি থাকলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দাম গুনতে হতো না।

এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, কিছু বিক্রেতা সরকারি দামের কাছাকাছি মূল্যেও গ্যাস বিক্রি করতে সক্ষম হলেও অধিক মুনাফার আশায় অনেকে বেশি দাম নিচ্ছেন

সরকারি মূল্য ঘোষণা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী ও সাধারণ ক্রেতারা।#

Advertisement
Advertisement
Advertisement