সংবাদ শিরোনাম

ডুমুরিয়ায় খাল খননে কোটি টাকা ব্যয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

 প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন   |   খুলনা

ডুমুরিয়ায় খাল খননে কোটি টাকা ব্যয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, যেসব খাল পুনঃখনন করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই আগে থেকেই সচল ও পর্যাপ্ত গভীর ছিল। অথচ জলাবদ্ধতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত শৈলমারী ও সালতাসহ প্রধান নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাহস-তেলিগাতী এবং কৃষ্ণনগর-নিমতলা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ঠিকাদারকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালের পরিবর্তে প্রধান নদীগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যেত। দেড়ুলী গ্রামের কৃষক তারক মণ্ডল বলেন, প্রকল্প শুরুর সময় থেকেই এলাকাবাসী নদী খননের দাবি জানিয়েছিলেন। তার মতে, একই অর্থে নদী খনন হলে কৃষি ও জনজীবনে বেশি সুফল মিলত।

খয়রামারি বিলসংলগ্ন কালিরঘাট খাল পুনঃখনন নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। প্রায় ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটি খনন করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, সেখানে পর্যাপ্ত পানি ছিল এবং কয়েক বছর আগেই খালের একটি অংশ পুনঃখনন করা হয়েছিল। পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক দিনেশ মিস্ত্রি বলেন, তিন বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড গেটসংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার অংশ খনন করেছিল। তাই আবার একই খালে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

একইভাবে টিয়াবুনিয়া মৌজায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলেও, সেই খালের পানি যে সালতা নদীতে গিয়ে পড়ার কথা, নদীটি এখনও পলি জমে ভরাট অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি বলেন, মূল নদী পুনঃখনন ছাড়া অপেক্ষাকৃত গভীর খাল খনন করে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা কতটা কমবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি নৌ-যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সুবিধা বাড়বে।

রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিত বালা বলেন, কৃষ্ণনগর-নিমতলা খাল পুনঃখননের মাধ্যমে অভয়নগরের রাজঘাট, বিল ডাকাতিয়া ও বারান্দার বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, শৈলমারী নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কালিঘাট রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে এবং ভারী বর্ষণে আবারও প্লাবনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল বাশার জানিয়েছেন, ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শৈলমারী নদী পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হলে বিল ডাকাতিয়াসহ আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিমত, খাল বা নদী পুনঃখননের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি প্রবাহ, নদী-খালের সংযোগ, কৃষি উৎপাদন ও জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ নিয়ে সমন্বিত সমীক্ষা করা জরুরি। অন্যথায় বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও মিলতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement