সংবাদ শিরোনাম

বুড়িভদ্রায় সেতুর অপেক্ষায় এক যুগ, ২ উপজেলার মানুষের ভরসা আবারও বাঁশের সাঁকো

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

বুড়িভদ্রায় সেতুর অপেক্ষায় এক যুগ, ২ উপজেলার মানুষের ভরসা আবারও বাঁশের সাঁকো

 মাসুদ আল হাসান, খুলনা :

খুলনার ডুমুরিয়া ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত বুড়িভদ্রা নদীতে একটি পাকা সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সম্প্রতি নদী খননের পর স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত পুরোনো বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি ভেঙে ফেলা হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে দুই উপজেলার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশ-কাঠের সাঁকোই ছিল নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন সেই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। কিন্তু সরকারের নদী খনন প্রকল্পের আওতায় বুড়িভদ্রা নদী খননের সময় সাঁকোটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আবারও নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৯০ ফুট দীর্ঘ নতুন একটি বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। কাঁঠালতলা বাজারের ব্যবসায়ী, কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং গৌরিঘোনা এলাকার বাসিন্দাদের যৌথ সহযোগিতায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও একটি সাঁকো ছিল। এখন সেটিও না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়েছে। তাদের প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের টাকায় সাঁকো নির্মাণ করতে হবে? দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হঠাৎ অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি মাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

কাঁঠালতলা বাজার ও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাকির হোসেন বলেন, নিজেদের উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ করা হলেও এটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ীভাবে জনদুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ প্রয়োজ

এলাকাবাসীর দাবি, ডুমুরিয়া ও কেশবপুরের গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement