সংবাদ শিরোনাম

নারী ক্রীড়ায় ট্রান্স বিতর্কে এডিএফের নতুন বার্তা

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

নারী ক্রীড়ায় ট্রান্স বিতর্কে এডিএফের নতুন বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে নারী ক্রীড়া–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জয় পাওয়ার পর রক্ষণশীল আইন সংস্থা অ্যালায়েন্স ডিফেন্ডিং ফ্রিডম (এডিএফ)–এর প্রেসিডেন্ট, সিইও ও প্রধান আইনজীবী ক্রিস্টেন ওয়াগনার বলেছেন, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তাঁর দাবি, টাইটেল নাইন (Title IX) আইনের ব্যাখ্যা ঘিরে চলমান বিরোধে সংস্থাটি আরও একাধিক অঙ্গরাজ্যে মামলা চালিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওয়াগনার বলেন, গত এক দশকে বিষয়টি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। আগে এসব বিষয়ে কথা বলা কঠিন ছিল, তবে এখন নারী ক্রীড়ায় প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে জনমত আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি জানান, সিএনএন ও এমএসএনবিসির মতো গণমাধ্যমে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

যুক্তরাষ্ট্রে টাইটেল নাইন হলো এমন একটি ফেডারেল আইন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে এই আইনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ওয়াগনার বলেন, বর্তমানে কানেকটিকাট, মিনেসোটা ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে এডিএফের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষায়, আদালতের পাশাপাশি সামাজিক পরিসরেও এই বিতর্কের নিষ্পত্তি প্রয়োজন এবং উভয় ক্ষেত্রেই কাজ চালিয়ে যাবে সংস্থাটি।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি কুস্তি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে চলমান মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সেখানে এক কিশোরী প্রতিযোগী অভিযোগ করেছেন, ট্রান্সজেন্ডার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে গিয়ে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ওয়াগনার এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত এবং ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

মিনেসোটার একটি সফটবল চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে দায়ের করা মামলার বিষয়ে তিনি জানান, নিম্ন আদালতে মামলা খারিজ হলেও তারা উচ্চ আদালতে লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাঁর মতে, নারী দলের সীমিত আসনে ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের ফলে অন্য প্রতিযোগীরা সুযোগ হারাতে পারেন।

কানেকটিকাটে ২০১৮ সালে দায়ের করা মামলাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রথম বড় আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন ওয়াগনার। তাঁর দাবি, ওই মামলায় কয়েকজন নারী অ্যাথলেট অভিযোগ করেছিলেন যে ট্রান্সজেন্ডার প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের কারণে তারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভারমন্টে একটি খ্রিস্টান স্কুলের পক্ষে সাম্প্রতিক আইনি সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওয়াগনার বলেন, এই বিতর্ক শুধু নারী ক্রীড়া নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অভিভাবকদের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতেও একই ধরনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

তবে এই বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী এবং সমর্থক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের অন্তর্ভুক্তি বৈষম্যহীন শিক্ষার অংশ এবং তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। ফলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে এখনো আদালত, রাজনীতি এবং জনপরিসরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

ভবিষ্যতে নতুন কোনো অঙ্গরাজ্যে মামলা করা হবে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে ওয়াগনার নির্দিষ্ট কিছু জানাননি। তবে তিনি বলেন, এডিএফ একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণ করছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

সূত্র:ফক্স নিউজ

Advertisement
Advertisement
Advertisement