হরমুজ উত্তেজনায় ইরানে টানা নবম রাতেও মার্কিন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে টানা নবম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবারের অভিযানে দেশটির উত্তর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, জাস্ক ও সিরিকসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতির পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক শহরের কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বাসুশেহর প্রদেশের খোরমুজ শহরের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের কাছে তিনটি বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে আইআরআইবি। অন্যদিকে আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনারাক ও চাবাহার শহরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, এবারের হামলাও মূলত দেশটির দক্ষিণ উপকূল লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তাবরিজে হামলার খবর নিশ্চিত হলে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম শহরটি আক্রান্ত হলো।
ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোরেস্তান প্রদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
এর আগে কুয়েত জানিয়েছে, তারা ‘শত্রু ড্রোনের হুমকি’ মোকাবিলা করেছে। বাহরাইনে রোববার দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। জর্ডানও জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
কুয়েতের সরকার বলেছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির একটি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে, এতে আগুন লাগে। দেশটি এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা বলে উল্লেখ করেছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের নির্ধারিত নৌ চলাচল নিয়ম অমান্যকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, রোববার চারটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অনিরাপদ পথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর দুটি জাহাজ ফিরে যায় এবং বাকি দুটি ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয় বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধের নিয়ম মানাতে তারা ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং আরও একটি জাহাজ অচল করেছে।
এদিকে উত্তর ইরাকে শনিবার একটি ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়। ওই ঘটনায় তৃতীয় এক সেনা নিখোঁজ ছিল।
সর্বশেষ হতাহতের পর চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। আহত হয়েছে ৪২০ জনের বেশি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরান ও লেবাননে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা