সংবাদ শিরোনাম

গায়ানায় ফেরি দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির আশঙ্কা তীব্র

 প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গায়ানায় ফেরি দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির আশঙ্কা তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গায়ানার উত্তর আটলান্টিক উপকূলে ১৩৩ আরোহী নিয়ে চলা একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬৬ জন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও বিকেলের পর আর কোনো জীবিত ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমভি বারিমা (MV Barima) নামের ফেরিটিতে ১১৬ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। রাজধানী জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমা গ্রামের উদ্দেশে যাত্রার সময় উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে এটি ডুবে যায়। শনিবার রাত প্রায় ১১টায় (০৩:০০ জিএমটি, রোববার) ফেরি থেকে বিপদসংকেত পাঠানো হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

গায়ানার জনপথমন্ত্রী হুয়ান এডঘিল বলেন, এখন পর্যন্ত ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী, ছয় ছেলে ও নয় মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাতের অন্ধকার এবং স্ক্যানারযুক্ত উদ্ধারজাহাজের অভাবে অভিযানের শুরুতে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে তেল ও গ্যাস খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্ক্যানারসংবলিত জাহাজ পাঠায়। সরকার ডুবন্ত ফেরির ভেতরে তল্লাশির জন্য ডুবুরি মোতায়েন করেছে এবং অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে।

প্রথমদিকে ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন এডঘিল। তবে পরে তিনি জানান, ফেরির অধিনায়কসহ কয়েকজন ক্রু সদস্যের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের নাম ফেরির যাত্রী তালিকায় ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এতে যাত্রী তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে নিখোঁজ ৬৬ জনকে এখনই মৃত ঘোষণা না করে নিখোঁজ হিসেবেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী লিওন মারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইগনাইট নিউজকে জানান, জর্জটাউন ছাড়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর হঠাৎ কেউ চিৎকার করে জানায় যে ফেরিটি ডুবে যাচ্ছে। ফেরি উল্টে গেলে তিনি সাঁতরে পানির ওপর উঠে একটি লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে ভেসে থাকেন। পরে তিনি তার ছেলেসহ আরও তিনজনকে একটি ভাসমান বাক্স আঁকড়ে থাকতে দেখেন।

মারি জানান, তিনি ও তার ছেলে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী, মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনির এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। তাদের ভাগ্য নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শিপিংবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেসেলফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৯ সালে নির্মিত এমভি বারিমার সর্বশেষ রক্ষণাবেক্ষণ হয় ২০২৪ সালে। চলতি বছরের শেষ দিকে জাহাজটি ড্রাই ডকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন ও মেরামতের কথা ছিল।

গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তে পুলিশ, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং সামুদ্রিক প্রশাসন বিভাগের সদস্যদের সমন্বয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অবহেলা, অসদাচরণ বা অপরাধের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement