নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার প্রচলিত সেনা আইন (মিলিটারি অ্যাক্ট) অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তিকে বেসামরিক ও সামরিক—দুই ভিন্ন আইনে বিচারের সুযোগ নেই। তাই জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এ মামলার বিচার হবে।
রোববার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে আধুনিক মাইন শনাক্তকরণ যন্ত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়ছে। সীমান্তের ওপার থেকে ছিটকে আসা গুলি এবং মাদক পাচারের ঝুঁকি ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতির সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা এক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কাউকে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে এমন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বক্তব্যকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা এলে জাতীয়তা যাচাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এ লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।