সংবাদ শিরোনাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আ.লীগ নেতাদের নিষিদ্ধে অনাগ্রহ ইসি, দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটি মামলার অভিযুক্তদের প্রার্থিতায় কড়াকড়ির প্রস্তাব

 প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আ.লীগ নেতাদের নিষিদ্ধে অনাগ্রহ ইসি, দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটি মামলার অভিযুক্তদের প্রার্থিতায় কড়াকড়ির প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাবে ইতিবাচক অবস্থান নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ আইন করে নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই।

তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছেদ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভায় এসব সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। সভায় স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানেরসিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেরআইন, বিধিমালা ও আচরণবিধির সংশোধনী নিয়েও আলোচনা হবে।

আ.লীগ নেতাদের নিষিদ্ধে ‘না’ ইসির

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল প্রস্তাব দিয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। কোনো ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, সেটি প্রার্থিতা নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে না।

চার শ্রেণির ব্যক্তির প্রার্থিতায় কড়াকড়ি

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইসিটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে আদালতে খালাস বা অব্যাহতি পেলে তাদের অযোগ্যতা আর বহাল থাকবে না।

একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। কমিশনের যুক্তি, অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংসদ নির্বাচনে যেহেতু এ ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।

এ ছাড়া ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের মতে, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে নির্বাচন করতে চাইলে তাদের চাকরি ছাড়ার বিধান রাখা হতে পারে।

আপিল ট্রাইব্যুনালে আসছে পরিবর্তন

বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে একজন বিচারপতি ও একজন বিচার বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকলেও, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এক সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করেছে ইসি।

কমিশনের ভাষ্য, দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মতবিরোধ দেখা দিলে মামলার নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হয় এবং অতিরিক্ত আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেই জটিলতা কমাতেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব

নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েন করা যায়।
  • স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিল।
  • নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি।
  • হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান সংযোজন।

কমিশনের অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার সম্মতি দিলে সংশোধিত আইন ও বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে আচরণবিধির সংশোধন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় তা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই কার্যকর করা যাবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement