সংবাদ শিরোনাম

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের আহ্বান, শহিদ সাংবাদিক পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার

 প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের আহ্বান, শহিদ সাংবাদিক পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার

ঢাকা, ১৯ জুলাই:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ নির্মাণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এ সময় জুলাইয়ে শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ঘাটতি থাকায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থার ভিত্তিতে সেই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনোই শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল সময়েও সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অবদান অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

তিনি অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দলটি জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও সেই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল সবসময় সক্রিয় থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement