স্পেনের নতুন প্রজন্মের উত্থান, মেসির শেষ বিদায়
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের নতুন যুগের সূচনা আর আর্জেন্টিনার এক কিংবদন্তির বিদায়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। রোববার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর স্পেন সমর্থকদের উৎসব ছড়িয়ে পড়ে টাইমস স্কয়ার থেকে রকফেলার সেন্টার পর্যন্ত।
লা রোহাদের এই জয় অনেকের কাছেই শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং স্প্যানিশ ফুটবলের সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের শুরু। গড় বয়স ২৬ বছর হওয়া দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। তরুণ এই প্রজন্মের হাতে স্পেন দীর্ঘদিনের সাফল্যের নতুন ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে বলে মনে করছেন সমর্থকেরা।
স্পেন সমর্থক জোয়ান ওয়াসন বলেন, ইয়ামালকে নিয়ে যেন এক প্রতীকী গল্প তৈরি হয়েছে। তরুণ বয়সের লিওনেল মেসির কোলে থাকা শিশু ইয়ামালের একটি পুরোনো ছবি স্মরণ করে তিনি বলেন, “তখন মেসি তাকে কোলে নিয়েছিলেন, আর এখন তিনিই ইয়ামালের হাতে ট্রফি তুলে দিচ্ছেন।”
তবে ফাইনালটি স্পেনের জন্য সহজ ছিল না। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও তারা আর্জেন্টিনার শক্ত প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি দীর্ঘ সময়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। অতিরিক্ত সময়ে ৯৩তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এর ১৩ মিনিট পর ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
স্পেন সমর্থক চার্লি ওয়েবস্টার বলেন, “শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পেন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা জয়ের যোগ্য ছিল। তবে আর্জেন্টিনা কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই করতে জানে। ম্যাচ পেনাল্টিতে গেলে সেটি ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে যেত।”
ইংল্যান্ড থেকে আসা এই সমর্থক আরও বলেন, “আর্জেন্টিনা যেখানেই খেলে, তাদের সমর্থকদের কারণে প্রতিপক্ষের জন্য চাপ তৈরি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেরা দলই জিতেছে।”
স্পেন থেকে ফাইনাল দেখতে আসা ৪২ বছর বয়সী সারাই মনসন বলেন, তরুণ দলটি শুধু একটি শিরোপা জেতেনি, বরং দেশের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা দেখিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলের কতটা সম্ভাবনা রয়েছে।”
দলের আরেক সমর্থক ব্রায়ান লেসি মনে করেন, এটি ফুটবলে প্রজন্ম পরিবর্তনের মুহূর্ত। তার ভাষায়, “এটি একটি নতুন প্রজন্মের শুরু। মেসির সময় শেষ হয়েছে, এখন লামিনে ইয়ামালের সময়।”
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য রাতটি ছিল আবেগঘন। বিশ্বকাপ হারানোর কষ্টের পাশাপাশি তারা উপলব্ধি করছিলেন, জাতীয় দলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এক অধ্যায়েরও হয়তো সমাপ্তি ঘটেছে। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে মেসির পুতুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আর্জেন্টিনা সমর্থক লিলি বলেন, “মেসি যা করেছেন, তা আর কেউ করেননি। এমনকি পেলের মতো কিংবদন্তিও নয়। তিনি আমাদের অসংখ্য আনন্দ দিয়েছেন।”
নিউ জার্সির ২২ বছর বয়সী আর্জেন্টিনা বংশোদ্ভূত সমর্থক মারভিন রেইস বলেন, জাতীয় দলের জন্য মেসির অবদান ছিল অসাধারণ। “তিনি দলকে আশা দিয়েছেন, অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং পুরো দলকে এগিয়ে নিয়েছেন।”
আর্জেন্টিনা থেকে আসা ৪৮ বছর বয়সী হোয়াকিন মার্তিনেস বলেন, তার ১২ ও ১১ বছর বয়সী ছেলেরা মেসিকে ছাড়া আর কোনো অধিনায়ককে চেনে না। তিনি বলেন, “আমার কাছে মারাদোনা ছিলেন সবকিছু, কিন্তু আমার সন্তানদের কাছে সেটি মেসি। এখন মেসি নেই, দলকে নতুন করে পথ খুঁজতে হবে।”
তবে পরাজয়ের পরও তিনি বলেন, “খারাপ লাগছে, কিন্তু এটাই ফুটবল।”
সূত্র: আলজাজিরা