সংবাদ শিরোনাম

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতায় মাঠে সরকারি সংস্থাগুলো

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতায় মাঠে সরকারি সংস্থাগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও ভূমিধসের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনগণকে নিরাপদে রাখতে নিয়মিত প্রচার, মাইকিং, সড়ক প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামে এখনো বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যাকবলিত। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত জরুরি বার্তা, অনিরাপদ ঘরবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপের কামড় থেকে সতর্ক থাকা, শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ স্থানে রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ত্রাণ গ্রহণে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছেঁড়া তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলেও জনজীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জেলা তথ্য অফিস শুরু থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কক্সবাজারেও বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মাত্র ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং কোথাও নতুন করে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভারী বর্ষণের শুরু থেকেই পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বান্দরবানেও দুর্যোগ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। জেলা তথ্য অফিস চলচ্চিত্র প্রদর্শন, প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিলেও বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজারে সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যসুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement