সংবাদ শিরোনাম

বার্নহ্যামের হাতে আজ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব

 প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বার্নহ্যামের হাতে আজ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবার পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার এই পরিবর্তন সম্পন্ন হবে। প্রায় এক দশক ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে থাকার পর কয়েক সপ্তাহ আগে উপনির্বাচনে সংসদে ফিরে এসে দলীয় নেতৃত্ব জিতে নেওয়া বার্নহ্যাম গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম অতীতে লেবার সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার অবস্থান এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক প্রচারের কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান।

নেতৃত্বের প্রচারণায় বার্নহ্যাম বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিকে ভিন্নভাবে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই অঙ্গীকারই বাস্তবায়ন করতে চান। সমর্থকদের মতে, সহজ-সরল ও মানুষের কাছাকাছি থাকার রাজনৈতিক ধরন তাকে লেবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে দায়িত্ব নিয়েই তাকে ধীরগতির অর্থনীতি, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনঅসন্তোষের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সোমবার প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

প্রচলিত রীতিতে এই অনুষ্ঠানকে ‘কিসিং হ্যান্ডস’ বলা হলেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী কেবল রাজা বা রানির সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করেন। এরপর বার্নহ্যাম ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে জাতির উদ্দেশে প্রথম বক্তব্য দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দীর্ঘ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দায়িত্ব বুঝে নেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি চ্যান্সেলর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপদে নিয়োগ দেবেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো অভিষেক অনুষ্ঠান বা সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না; সরকার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যক্রম শুরু করে।

বার্নহ্যামের সরকারের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হতে পারে আর্থিক সংকটে থাকা থেমস ওয়াটারকে ‘স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিম’-এর আওতায় এনে সাময়িকভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

লেবার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, তার সরকার ব্রিটেনের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং দেশের সব অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম-এমনকি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সব মানুষের জন্যই তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলেও এখনই সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে না। দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নতুন নেতা নির্বাচন করলে তিনিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের আগে আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।

গত ২২ জুন কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তার ওপর চাপ বাড়ছিল। বিশেষ করে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সমালোচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

স্টারমারের পদত্যাগের পর শুরু হওয়া নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের লেবার দলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। বার্নহ্যাম সহজেই সেই সমর্থন পান। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ নিশ্চিত করেন।
সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement