আটলান্টিকের তীরে কোপাকাবানায় আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন
শাহনুর রুমেন, রিও ডি জেনেইরো (ব্রাজিল) :
আটলান্টিক মহাসাগরের ঢেউয়ের গর্জনের সঙ্গে মিশে ছিল হাজারো ফুটবলপ্রেমীর উচ্ছ্বাস। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতের বিশাল পর্দার সামনে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য আর্জেন্টাইন সমর্থক। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় স্পেন।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, পাসিং এবং কৌশলগত ফুটবলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় স্পেন। আর্জেন্টিনা রক্ষণে দৃঢ়তা দেখালেও আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার খুঁজে পায়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত গোল স্পেনকে এনে দেয় বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপা।
ফাইনালের শেষদিকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দলটি ১০ জনের হয়ে পড়ে। এরপর স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে শেষ বাঁশি পর্যন্ত এগিয়ে থাকে।
রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতে তখন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে আটলান্টিকের তীর। অন্যদিকে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের মুখে নেমে আসে গভীর হতাশা। কেউ জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে নীরবে সৈকত ছেড়ে চলে যান, কেউ আবার বড় পর্দার সামনেই দাঁড়িয়ে পরাজয়ের বেদনা ভাগ করে নেন। জয়-পরাজয়ের আবেগে আরেকটি স্মরণীয় রাতের সাক্ষী হয়ে থাকে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই সমুদ্রসৈকত।