ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, ব্যাহত গণপরিবহন
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় সরকারি নীতি ও দুর্নীতির
প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাতের দিকে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়েছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বাস ও ট্রেন চলাচলের রুট
সাময়িকভাবে বন্ধ বা পরিবর্তন করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার
সকাল থেকে সংসদ ভবনের সামনে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গভীর রাতে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত
বছর দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের বর্ষপূর্তি এবং সরকারের বিভিন্ন
নীতির প্রতিবাদে হাজারো মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দিনের শুরুতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও বিক্ষোভ মোটামুটি
শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে
কালো পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালানোর পাশাপাশি দুটি
মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে
ইট-পাটকেল ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্টো স্থানীয় গণমাধ্যমকে
জানান, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা জননিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি
করতে পারে।
সহিংসতার প্রভাব পড়ে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও। শুক্রবার
জাকার্তার কমিউটার রেল নেটওয়ার্কের কয়েকটি রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ অথবা
বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার কয়েকটি বাস রুট ও
টোল সড়কও বন্ধ রাখা হয়।
বিক্ষোভকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর সরকারের জন্য বড়
ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে
ক্ষমতায় আসার পর তাঁর নেওয়া উচ্চাভিলাষী ও ব্যয়বহুল জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির
অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি টেম্পো ম্যাগাজিনের এক জরিপে প্রেসিডেন্টের
জনপ্রিয়তা কমে ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার অভিযোগে
বৃহস্পতিবারই অন্তত ৬৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে এয়ারগান, যোগাযোগের
সরঞ্জাম এবং ককটেল তৈরির উপকরণ জব্দ করার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর আশপাশে
নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।