হরমুজের আন্তর্জাতিক নৌপথ ইরানি মাইনমুক্ত: যুক্তরাষ্ট্র
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথে পাতা ইরানের সমুদ্র মাইন সরিয়ে ফেলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার শুক্রবার ভোরে জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলো এখন ইরানি মাইনমুক্ত।
সেন্টকমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কুপার বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর অসাধারণ কাজের কারণে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নৌপথগুলো ইরানি সমুদ্র মাইনমুক্ত।’
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’-এর দীর্ঘদিনের নৌপথগুলো দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে। মার্কিন বাহিনী নীরবে ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই নৌপথগুলো থেকে সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি সরিয়ে দিয়েছে।
কুপারের ভাষায়, কাজটি ছিল ‘চ্যালেঞ্জিং ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযান সফল হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো খোলা এবং জাহাজ চলাচল বাড়ার গতি তৈরি হয়েছে।
মার্কিন এই কমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক জাহাজকে সমন্বিত নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে বিশ্ববাজারের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৭৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে।
তবে ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন কুপার। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ পুনরায় চালু করার পর থেকে ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলো থেকে কোনো তেল রপ্তানি হয়নি।
কুপার বলেন, মার্কিন অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ইরানের কোনো বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে পারেনি। কেবল মানবিক কারণে কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অবরোধ অমান্য করে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭৫টি জাহাজকে মার্কিন বাহিনী ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। নির্দেশ না মানায় আরও তিনটি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
কমেছে জাহাজ চলাচল
এদিকে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের সংখ্যা গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ১৫টিরও নিচে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রণালি পার হওয়া পাঁচটি জাহাজের মধ্যে দুটি ছিল মাঝারি আকারের তেলবাহী ট্যাংকার এবং একটি ছিল অত্যন্ত বড় গ্যাসবাহী জাহাজ।
তবে এই সংখ্যা পরে পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ সমুদ্রযাত্রার সময় কিছু জাহাজ সাধারণত তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া তথ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মোট জাহাজ চলাচলের পূর্ণ চিত্র পাওয়া নাও যেতে পারে।