তিন সাংবাদিককে বরখাস্ত: পেন্টাগনের বিরুদ্ধে স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের মামলা
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর তিন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক তাদের চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা খর্ব করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তাদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা মামলার নথিতে সংবাদপত্রটির প্রকাশক ম্যাক্স লেডেরার, প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিবেদক লারা কোর্তে দাবি করেন, তাদের বরখাস্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সামরিক সংবাদ কাভারেজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ নিজেকে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে আসছে। তবে সংবাদপত্রটির পরিচালনায় মার্কিন সরকারের অর্থায়ন রয়েছে।
সম্প্রতি ওই তিন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেয় পেন্টাগন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে চাকরিচ্যুতির এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রতি যে অঙ্গীকার দেখিয়ে আসছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবারের মামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অসাধারণ মাত্রার সেন্সরশিপ প্রচেষ্টা’ চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সামরিক অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার রক্ষায় ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশ করার কারণেই সাংবাদিকদের চাকরি থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সাংবাদিকদের সংবিধান-স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, এই মামলা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ‘স্পষ্ট ও গুরুতর’ প্রচেষ্টা ঠেকানোর লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সবারই একটি মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের। সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের ভয় বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই আইনি পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
মামলাটি এখন মার্কিন আদালতে বিচারাধীন। চাকরিচ্যুতি এবং সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কে এই মামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা